কেঁচো খুঁড়তে গেলে বিষধর সাপ বেরিয়ে আসবে: ওবায়দুল কাদের

ওবায়দুল কাদেরবিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কেঁচো খুঁড়তে গেলে বিষধর সাপ বেরিয়ে আসবে।
শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এক-এগারোর কুশীলবদের সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিলো’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, কেঁচো খুঁড়তে গেলে বিষধর সাপ বেড়িয়ে আসবে। তাদের ঘরের শত্রু বিভীষণ কে? এটা তাদের বের করতে হবে। এক-এগারো সম্পর্কে আমাদের আরও গবেষণা করতে হবে।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এই রকম ঘোষণা এম এ হান্নানও দিয়েছিলেন। সেদিন জিয়াউর রহমানের ঘোষণার যে একটা তাৎপর্য ছিলো না,সেটা আমরা অস্বীকার করবো না। তিনি ঘোষণার পাঠক ছিলেন,ঘোষক ছিলেন না। এই দাবি তিনি করতে পারেন না। তিনি বোধহয় কোনও দিন করেননি। তার মৃত্যুর পর তার দল হয়তো দাবি করছে। 

তিনি বলেন, ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ সভা স্থগিত হওয়ার পর হোটেল পূর্বানীতে দেশি-বিদেশী সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলন-আপনি কি এই মুহূর্তে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে চান? তিনি উত্তরে বলেছিলেন,নট ইয়েট। 

সেতুমন্ত্রী বলেন, মরহুম জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পর বিচিত্রা এবং দৈনিক বাংলায় একটা নিবন্ধ লিখেছিলেন। সেই নিবন্ধে তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষণে আমরা স্বাধীনতার গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে গিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্য,আজকে জিয়াউর রহমানের দল ৭ মার্চ পালন করে না। অথচ জিয়াউর রহমান সাহেব নিজেই বলেছেন, এই ভাষণটি ছিল স্বাধীনতার গ্রিন সিগন্যাল। 

তিনি বলেন, ঘোষণা নিয়ে যে কথা ওঠে-এই ঘোষণার ম্যানডেট কিন্তু তাকে ৭০ সালের নির্বাচনে জাতি দিয়েছিলো। এ অধিকার অন্য কারো ছিল না। ঘোষক অনেকেই হতে পারেন। ঘোষণা পাঠক হতে পারেন, ঘোষক হতে পারেন না। মরহুম জিয়াউর রহমান নিজেই বলেছিলেন, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করছি, আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সেই ঘোষণা হয় ২৫ মার্চে। আমরা ৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। এ কথাও বলে রাখি, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এবং নির্বাচিত দলের নেতা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা করা নিরঙ্কুশ অধিকার কেবল বঙ্গবন্ধুর ছিল।

 আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্বের সেরা ওয়ার্ল্ড গ্রেট স্পিচ-এ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। দেরিতে হলেও বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটি ওয়ার্ল্ড গ্রেট স্পিচ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত।

৭ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা সফল করতে ঢাকার আশপাশের জেলার নেতাদের সঙ্গে এই যৌথ সভা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

পিএইচসি/এপিএইচ/