ল্যাটিন আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শ্লথ গতিতে চলা ট্রেনের মতো মন্তব্য করে পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক বলেন, এরজন্য আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে তিনি।
তিনি বলেন, এ শ্লথ গতির কারণ হচ্ছে ভাষা, ভিসা পাওয়ার জটিলতা এবং বাংলাদেশের সম্পর্কে তাদের ধারণা।
বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল দেশ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করলে অর্থনৈতিকভাবে ল্যাটিন দেশগুলো উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।
গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ ৬ শতাংশের উপর প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এবং আইএমএফ-এর হিসাব অনুযায়ী আগামি ২০ বছর এই হার বজায় থাকবে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে লভ্যাংশ পাওয়া যায়, যেটি পৃথিবীর অন্য কোথাও বিরল বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশে ভেনেজুয়েলার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত আগুস্ত মনটিল বলেন, তার দেশের রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো মোরোসকে ঢাকায় আসার জন্য প্রস্তাব করবেন তিনি।
ল্যাটিন আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিষয়ক এক সেমিনারে রবিবার তিনি বলেন, এর আগে দুইবার ভেনেজুয়েলার তৎকালিন রাষ্ট্রপতি হুগো চ্যাভেজ বাংলাদেশ সফর করেছেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে তেল, গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যালসহ জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে, সেজন্য তার সফর হতে পারে।
তিনি জানান, নিকোলাস মাদুরো মোরোস ভারত সফরের সময়ে এ সফর হতে পারে। যদিও তিনি ভারত সফরের সময়সূচি বলতে পারেননি।
এ অনুষ্ঠানে নয়টি ল্যাটিন ও ক্যারিবিয়ান দেশের রাষ্ট্রদূত অংশগ্রহণ করেন।
মেক্সিকোর অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মেলবা প্রিয়া, যিনি দিল্লি থেকে বাংলাদেশের ক’টনৈতিক সম্পর্ক রাখেন, তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে গাড়ি ও টেক্সটাইল বিষয়ে কিভাবে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানো যায়, সে ব্যাপারে তার ট্রেড কাউন্সিলরকে বাংলাদেশে পাঠাবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেক্সিকোতে তার দূতাবাস খুলেছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল তার দেশ সফর করতে পারে।
বাংলাদেশ ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি তৈরি পোশাক মেক্সিকোতে রফতানি করে এবং সাত মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে।
তার ছেলেবেলার স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের সময়ে তিনি এক ব্যাগ চাল তার কাঁধে করে মেক্সিকোর রেড ক্রসে নিয়ে গিযেছিলেন বাংলাদেশের লোকদের জন্য।
সেই জায়গা থেকে আমার জীবদ্দশায় বাংলাদেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই হয়নি, তারা খাদ্য রফতানি করছে।
বাংলাদেশ ও ল্যাটিন দেশগুলোর মধ্যে বাণ্যিজিক সম্পর্ক হতেই হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পেরুর রাষ্ট্রদূত হোসে জে জি বেতানকোর্ট প্রস্তাব করেন, ঢাকায় একটি বাংলাদেশ-ল্যাটিন আমেরিকা কালচারাল হাউজ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এর উত্তরে বলেন, তিনি দুই থেকে তিনজন ল্যাটিন আমেরিকার লেখককে আগামি একুশের বইমেলায় আমন্ত্রণ জানাবেন।
এসএসজেড/এপিএইচ/