অন্যদিকে, বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়ন,জেন্ডার সমতা ও দারিদ্র্য বিমোচনকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রভাগে স্থান দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এসব একথা বলেন।
‘অধিকার,মর্যাদায় নারী-পুরুষ সমানে সমান’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এবার বিশ্বনারী দিবস পালিত হচ্ছে মঙ্গলবার।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন,আজকের সমাজে যে পরিবর্তন এবং উন্নয়ন হয়েছে তা পুরুষের একার চেষ্টায় নয়,বরং নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। ব্যক্তিগত,পারিবারিক,সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনের সর্বস্তরে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অগ্রযাত্রার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন,বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও নেতৃত্বে নারী উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। ব্যবসা-বাণিজ্য,রাজনীতি, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, কূটনীতি, সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা,শান্তিরক্ষা মিশনসহ সবক্ষেত্রে নারীর সফল অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ক্রমান্বয়ে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নারীর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করায় নারীর ক্ষমতায়নে শক্ত ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে নারীর ক্ষমতায়নে একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সকলের প্রত্যাশার সঙ্গে সুর মিলিয়ে তিনি বলেন,আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে সমঅধিকার সম্পন্ন একটি বাসযোগ্য পৃথিবী।
এবারের নারী দিবসের স্লোগান যথার্থ ও সময়োপযোগী হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘এই প্রতিপাদ্য নারীর ব্যক্তিগত,পারিবারিক,সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে সমঅধিকার নিশ্চিত করতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।’
বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যাদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠায় নারীর সমঅধিকার এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আজ সর্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে তাদেরও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
গত ৭ বছরে সরকার দেশের নারী সমাজের উন্নয়নে বিভিন্নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০,পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা ২০১৩,ডিএনএ আইন ২০১৪ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫ প্রণয়ন করেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাসে উন্নীত এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা ও ল্যাকটেটিং মাদার ভাতা চালু করেছে। এছাড়া বয়স্ক ভাতা,বিধবা-তালাকপ্রাপ্ত ও নির্যাতিত নারীদের ভাতা কর্মসূচি ও অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতা চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন,প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান,ভিজিএফ,ভিজিডি ও জিআর কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমেও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার কাঠামোতে প্রত্যক্ষ ভোটে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে।
শেখ হাসিনা বলেন,সরকার এখন মন্ত্রণালয়গুলোতে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন করছে।
তথ্যসূত্র: বাসস।
/এফএস/এমএসএম