ধানমণ্ডির ৪/এ সড়কে প্রবেশ করে একটু সামনে এগুলেই ১১ নম্বর বাড়ি। এই বাড়িটির সামনের ফুটপাতের ওপর একটি বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছটির পুরো অংশই ছিল রাস্তার ওপরে। ১১নম্বর বাড়ির ঠিক উল্টোপাশেরই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান কার্যালয়।
জানা গেছে, সোমবার দুপুর সোয়া দুটার দিকে সেই কৃষ্ণচূড়া গাছটির গোড়ায় ১১ নম্বর বাড়ির সামনেই গাড়ি পার্কিং করে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চালক সোহরাব হোসেন। সে পথেই যাত্রী নিয়ে গাছের নিচ দিয়ে যাচ্ছিল রিকশা। হুট করেই কৃষ্ণচূড়া গাছটি পড়ে রিকশার ওপর। সেই রিকশাতেই বসা ছিলেন চিত্রপরিচালক ও চিত্রশিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠু।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হেলে পড়া কৃষ্ণচূড়া গাছটির শেকড় শুকিয়ে আছে। গোড়ার দিকের অনেক অংশ পচে গেছে। গাছটি বেশি বাঁকা থাকায় পুরো অংশই ছিল সড়কের ওপর।
গাড়িটির চালক সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সব সময় এখানেই আমরা থাকি। গাড়ি বের করে এখানে রাখি। অন্য সময় এখানে আরও অনেক গাড়ি থাকে। গাছটি পড়ার সময় আমি লাফ দিয়ে সরে যাই। গাছটির গোড়ার দিক গাড়ির পেছনের অংশের পড়ে, আর মাথার অংশ পরে রিকশার ওপর। রিকশায় বসা যাত্রীর (মিঠু) মাথায় গাছের ডালের আঘাত লাগে। আঘাত লাগার সঙ্গে-সঙ্গে তিনি ছটফট করতে থাকেন। তার (মিঠু) নাক, কান দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে।
গাছ পড়ার শব্দে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয় থেকে ছুটে এসেছিলেন সহকারী উপ-পুলিশ পরির্দশক (এএসআই) আব্দুল মোতালেব। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গাছ পড়ার শব্দে ছুটে এসে দেখি, গাছের নিচে পড়ে আছেন রিকশা চালক ও যাত্রী (মিঠু)। তার (মিঠু) পাশেই পড়ে ছিল রক্ত মাখা কিছু সিডি। লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। অফিসে ফিরেই এসেই টেলিভিশনে দেখি তিনি খালিদ মাহমুদ মিঠু, তিনি আর বেঁচে নেই।
ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশেনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নুরুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হলে অপসারণের দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু চাইলেই আমরা গাছ কাটতে পারি না। গাছ কাটার জন্য পরিবেশ অধিদফতর থেকে অনুমতি নিতে হয়। এছাড়া, মরা গাছ কাটতে গেলেও পরিবেশবাদীরা আন্দোলন শুরু করেন। ফলে, গাছ হেলে পড়া না পর্যন্ত কাটার সুযোগ থাকে না।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের জন্য আইনি জটিলতা দূর করা উচিত। এছাড়া, গাছের তালিকা করে ঝুঁকির্পূণ শনাক্তে নিয়মিত মনিটরিং করা উচিত।
তবে, এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রইছউল আলম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
/এমএনএইচ/