সকালে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আদালতে উপস্থিত হলে সঙ্কট ঘনীভূত হয়।আপিল বেঞ্চ শুরুতেই মীর কাসেমের রায় নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সংশয় প্রকাশ করা নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে আদেশ দেন। আদালত বলেন, এধরনের বক্তব্যে তারা স্তম্ভিত। মন্ত্রীদের এধরনের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন আদালত। আদালত বলেন, আগামি ১৫ মার্চ সকাল ৯টায় সর্বোচ্চ আদালতে হাজির হয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া,বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা,বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, বিচারপতি মো. ইমাম আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি বজলুর রহমান।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া মীর কাসেম আলীর আপিলের রায়কে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সমালোচনা করে গত শনিবার রাজধানীতে এক সেমিনারে বক্তব্য দেন সরকারের দুইমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও আ ক ম মোজাম্মেল হক। পরে বেঞ্চ থেকে দুই মন্ত্রীকে আগামি ১৫ মার্চ আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরপরই কার্যতালিতায় মীর কাসেমের মামলাটি না থাকার বিষয়টি নজরে আসে।
সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের সময় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, সাপলিমেন্টারি কার্যতালিকায় না থাকায় আজ রায় হচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। এর বেশি এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। এসময়ের মধ্যেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে রায় না হওয়ার বিষয়টি।রায় কবে হবে পরবর্তীতে সে বিষয়ে জানানো হবে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে থাকেন বিচারপ্রার্থীরা।
এসময় সকলেই উৎকন্ঠায় পড়ে যান, রায় না হওয়ার কারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পরপরই খবর আসে ভুলবশত কার্যতালিকা থেকে বাদ পড়েছে, রায় মঙ্গলবারই যেকোন সময় হবে। অবশেষে সব উৎকন্ঠা উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে ৯টা ৪০ মিনিটে মানবতাবিরোধী অপরাধী মীর কাসেম আলীর ফাঁসির সাজা বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।
রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আগেভাগে রায় নিয়ে কোন মন্তব্য করা ঠিক না। কেউ কেউ মনে করেন তারাই বিচারটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সেটিও সঠিক নয়।বিচারের বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে শুরু করা সম্ভব হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে এটি এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রায় কারও কথার ওপর ভিত্তি করে পাল্টে যাবে, এটা ভাবার কোন কারণ নেই। যুক্তিতর্ক ও নথির ভিত্তিতে রায় দেওয়া হয়।
এপিএইচ/