‘নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দিবে অধিকার, হে বিধাতা। রবীন্দ্রনাথ তার কবিতায় বিধাতার কাছে প্রশ্ন করলেও আমরা আমাদের অধিকার নিজেরাই অর্জন করে নেবো।’ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রত্যয়ের কথা জানান।
নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে নারীদের করণীয় এবং নারী-পুরুষের সমতার ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি। পোনে ১২টার সময় তিনি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে, হাইকোর্টে বিচারপতি পদে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সবক্ষেত্রে মেয়েরা এগিয়ে আছে। এমনকি সম্প্রতি মেরিন একাডেমিতে মেয়েরা চাকরি পেয়ে গেছে, তারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আমরা দেখেছি সুযোগ পেলে তারা কি করতে পারে। ফলে তাদের যত বেশি সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া যাবে তত বেশি কাজ করবার সুযোগ পাবেন নারীরা।’
সরকারের বিভিন্ন সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। নারী উন্নয়ন নীতি করেছিলাম আমরা। বিএনপি এসে পরিবর্তন করে সেটা বাতিলই করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে আবারও সরকার গঠন করে ২০১১ সালে নারী উন্নয়ন নীতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস বেতনসহ করা হয়েছে। সদ্যজাত শিশুর জন্য সচিবালয় থেকে শুরু করে সব জায়গায় ডে কেয়ার সেন্টার করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সবধরনের ফরমে বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নাম দেওয়ার নিয়মও করে দেওয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী নারীর প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘মনে রাখবেন মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত।’
নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাল্য বিবাহনিরোধ আইন মন্ত্রিসভা অনুমোদন, যৌতুক নিরোধ আইন যুগপোযোগী করা, প্রতি জেলায় লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা করা, কমিউনিটি ক্লিনিক করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া মাধ্যমে সরকার নারীর মর্যাদার প্রতি বিশেষভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।’
বিভিন্ন পদক্ষেপ নারীদের ভেতরে আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
/ইউআই/এসটি/