তরুণদের আধুনিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে উল্লেখ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান বলেছেন, ডি-৮ অঞ্চলে ১ দশমিক ৩ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের বসবাস যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ বাংলাদেশে। এই অঞ্চলের বিরাট এই জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি অর্জনে তরুণ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (২১ মে) বিকালে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ডি-৮ যুব বিষয়ক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। সম্মেলনে সব সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদনক্রমে ‘ঢাকা ডিক্লেয়ারেশন অন ইয়ুথ’ গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে দিয়ে ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর যুবদের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি হবে। এতে ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলো তথা বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তিনি বলেন, ডি-৮ অঞ্চলে ১ দশমিক ৩ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের বসবাস যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। এই অঞ্চলের বিরাট এই জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি অর্জনে তরুণ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে হবে। তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদেরকে আধুনিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর যুব মন্ত্রী ও সিনিয়র অফিসিয়ালদের নিয়ে সভায় সদস্য দেশগুলোর যুবদের সামগ্রিক উন্নয়নের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলো থেকে আসা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন। বিস্তারিত আলোচনা শেষে তারা বেশ কিছু সুপারিশ করেন। সেগুলো হলো—
ডি-৮ ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, ডি-৮ যুব মন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বার্ষিক সভা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ, ডি-৮ ইয়ুথ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা, ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রগুলির সর্বোত্তম অনুশীলনকে শক্তিশালী করা, ডি-৮ যুবকদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ (ওয়েবসাইট ও ডাটাবেইজ তৈরি), ডি-৮ যুব উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন, ডি-৮ যুবকদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।
নাজমুল হাসান বলেন, সুপারিশগুলো নিয়ে বৈঠকের ২য় দিন আজ (মঙ্গলবার) আমার সভাপতিত্বে ডি-৮ ভুক্ত সদস্য দেশগুলো থেকে আসা যুব মন্ত্রীরা আলোচনায় অংশ নেন। ডি-৮ ভুক্ত অঞ্চলের যু্বদের উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি। সবশেষে সব সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদনক্রমে ‘ঢাকা ডিক্লেয়ারেশন অন ইয়ুথ’ গৃহীত হয়েছে যার মধ্যে দিয়ে ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর যুবদের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর যুবদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে এ আয়োজন ও ঢাকা ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ডি-৮ অঞ্চলের যুবদের উন্নয়নে এ আয়োজন এক অনন্য মাইলফলক। এটি যুবদের উন্নত জীবনযাপনের পথ অনুসন্ধানে আলোকবর্তিকা হয়ে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।