দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণ করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনকালে এই নীতির কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ ও জনগণের ভোগান্তি কমাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমকে পূর্ণাঙ্গভাবে অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে
ডিজিটাল আর্কাইভ, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং ইনভেস্টিগেশন এবং প্রসিকিউশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইপিএমএস) চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গণসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমাজের সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে দেশের প্রতিটি মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৫০৪টি 'দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি' গঠন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি, আধা-সরকারি দফতরগুলোর দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সেবাগ্রহণে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে 'গণশুনানি' কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সততাচর্চা প্রসারের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় বিক্রেতাবিহীন ৬ হাজার ৬৩৮টি 'সততা স্টোর' চালু করা হয়েছে। এছাড়া, ছাত্র সমাজের মাঝে সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ উন্নয়নের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৫৪২টি 'সততা সংঘ' গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে দুর্নীতি বিরোধী সভা, সেমিনার, মানববন্ধন, র্যালি, পথনাটক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে।