বিটিভি ভবনে তাণ্ডবের চিহ্ন ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোটা আন্দোলনের সময় নাশকতাকারীরা রাজধানীর রামপুরায় বিটিভি ভবনে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তার ক্ষতচিহ্ণ ঘুরে দেখেন তিনি।  

আজ শুক্রবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা ১৩ মিনিটের দিকে বিটিভি ভবনে যান তিনি। কোটা-সংস্কার আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা যেসব জায়গায় তাণ্ডব চালায় সেসব বিভাগ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিটিভি ভবনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করে প্রধানমন্ত্রীকে হতাশ ও অসন্তুষ্ট দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শনের একদিন পর প্রধানমন্ত্রী বিটিভি ভবন পরিদর্শন করলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা করার সময় কান্না ধরে রাখতে পারেননি বিটিভির কর্মকর্তারা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

বিটিভি ভবনে ধ্বংসযজ্ঞ বর্ণনার সময় বিটিভির কর্মকর্তারা চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। এসময় প্রধানমন্ত্রীও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। বিটিভির মহাপরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিটিভি ভবনে উন্মত্ত তাণ্ডবের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন। এসময় বিটিভি ভবনে ভাঙচুরের একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিটিভির মহাব্যবস্থাপক মাহফুজা আক্তারকে অশ্রুসিক্ত নয়নে সান্ত্বনা দেন। পরিদর্শনকালে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খন্দকার এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম. নজরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিটিভির ধ্বংসস্তূপ ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

১৮ জুলাই বিকালে বিটিভি ভবনের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। তারা প্রথমে সেখানে পার্ক করা কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়। পরে বিটিভি ভবনের ভেতরে গিয়ে বিভিন্ন ফ্লোরের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিটিভির নিয়ন্ত্রণ নেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিটিভির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাণ্ডবে বিটিভির বিভিন্ন অবকাঠামো, সম্প্রচার সরঞ্জাম, নকশা বিভাগ, অফিস ভবন এবং কক্ষ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯৬৪ সাল থেকে সংরক্ষিত অমূল্য প্রাচীন জিনিস দিয়ে সজ্জিত একটি টেলিভিশন জাদুঘর এবং মুজিব কর্নার, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, অভ্যর্থনা ও ওয়েটিং রুমের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রক (এসি) এবং অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিটিভির ধ্বংসস্তূপ ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

এছাড়াও,  প্রায় ৪০টি কম্পিউটার, ১০০টির মতো টেলিভিশন সেট এবং কম্পিউটার ল্যাবের আসবাবপত্র, প্রশিক্ষণ কক্ষ ও প্রিভিউ রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লিফট, নেটওয়ার্ক  সরঞ্জাম, সিসি ক্যামেরা ও মনিটরিং সেটও ভাঙচুর করা হয়।

যানবাহন ভবন এবং শেড, ক্যান্টিন এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কক্ষ; একটি সম্প্রচার ওবি ভ্যানসহ ১৭টি  গাড়ি, ২১টি মোটর সাইকেলে আগুন এবং ৯টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

অডিটোরিয়াম, লাউঞ্জ, ডিজাইন, মেক-আপ, ওয়ার্কশপ, গ্রাফিক্স রুম, স্টোর/ওয়ারড্রব রুম এবং ২০টি গ্রাফিকস কম্পিউটারও ভাঙচুর করা হয়।

বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে সেদিনের হামলার বর্ণনা শোনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

নকশার শেড, স্টুডিওর ছাদ, দেয়াল, ভবন এবং নাগরিক অবকাঠামো; কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রায় ৭০টি এয়ার কন্ডিশনার (এসি); অফিসিয়াল আসবাবপত্র,পাঁচটি ফটোকপি মেশিন এবং প্রায় ৫০টি অফিসিয়াল কম্পিউটারও ভাঙচুর করা হয়।

১০টি কম্পিউটার ওয়ার্ক স্টেশন, বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, স্পর্শকাতর যন্ত্রপাতি, রেকর্ডিং ক্যামেরা, আলোর উৎস এই সম্পর্কিত সরঞ্জামসহ একশ’ মনিটরিং সেট; গুরুত্বপূর্ণ দাফতরিক ফাইল নথি শিল্পীর সম্মানী-সম্পর্কিত খাতা, ব্যাংক বই, ভাউচার, অডিট বিল ইত্যাদিও ভাঙচুর করা হয়। সূত্র: বাসস।