চীনের সঙ্গে বাংলাদেশে মানুষের সুসম্পর্ক আছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশে মানুষের সুসম্পর্ক আছে এবং বাংলাদেশের মানুষ চীনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১৪ আগস্ট) ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে দেখা করার পরে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের জানিয়েছি তাদের যে উদ্বেগ আছে যেমন তাইওয়ান বা তিব্বত– এগুলো নিয়ে বাংলাদেশ সবসময় তাদের দৃঢ় সমর্থন দিয়েছে এবং একই অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। উনি বলেছেন এবং আমিও রাজি হয়েছি যে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখানে কে সরকারে থাকলো সেটি এসে যায় না। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশে মানুষের সুসম্পর্ক আছে। আমি এটাও বলেছি যে আসলেই বাংলাদেশের মানুষ চীনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে। কাজেই সরকার পরিবর্তন হোক বা যাই হোক– চীনের সঙ্গে সম্পর্ক সবসময় ভালো থাকবে।’

‘চীন অত্যন্ত নির্ধারিত কথাবার্তা বলে, তারা লিখিতভাবে নিয়ে আসছে কী কী বলতে চায়’ এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ চীনা মুদ্রার ঋণের বিষয়টি চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন এবং আমি বলেছি যে আমাদের অর্থনৈতিক টানাপড়েন চলছে। আমরা আশা করবো চীন আমাদের সহায়তা করবে।’

সরকারের রোডম্যাপ

কেন এই সরকার এসেছে এবং সরকারের সামনে রোডম্যাপ কী– এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতদের জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি কতদিন লাগবে আমরা জানি না। কিন্তু একটি লক্ষ্য আমাদের দেওয়া হয়েছে যারা এই বিপ্লব সাধন করেছে তারা। এটি শুধু ছাত্র নয়, জনসাধারণেরও ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। সাধারণভাবে একটি অবস্থান বের হয়ে এসেছে সবাই কী চায়।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি পাঁচ বছর পর পর আমাদের যেন লড়াই করতে না হয় যে কীভাবে আমাদের ভোট দিতে হবে। এটি এক লাইনে বললাম। কিন্তু এর জন্য রাষ্ট্রীয় যে কাঠামো সেটির ব্যপক পরিবর্তন দরকার। সব পরিবর্তন যে এই সরকার করে ফেলবে সেটি নয়। কিন্তু পথনির্দেশ আসতে হবে এবং এটি পরে পরিবর্তন হবে না যাতে করে কেউ এটি ফেলে দিতে না পারে।’

অর্থনৈতিক নৈরাজ্য

অর্থনীতির বিষয়ে প্রচণ্ড নৈরাজ্য হয়েছে এবং সেটি থেকে বের হয়ে আসতে হবে– এই তথ্য উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘অর্থনীতিটা কয়েক ব্যক্তির নয়, সমগ্র মানুষের। তাদের সবচেয়ে কম যে চাহিদা সেটি আমাদের পূরণ করতে হবে। আমরা দুর্ভাগ্যবশত দেখেছি যে ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করা হয়েছে। কয়েকজন ব্যক্তি হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে বের করে নিয়ে গেছে। এই টাকা বের করে নিয়ে যাওয়ার কারণে চাপ পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিলে। এ ধরনের অরাজকতা যেন আর না হয় সেটির ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

সবার দাবি দুর্নীতি কমাতে হবে। পৃথিবীর কোনও দেশ নেই যেখানে দুর্নীতি নেই, এটি থাকবে। কিন্তু সীমাহীন দুর্নীতি এবং দুর্নীতি করলে এবং ধরা পড়লে কোনও শাস্তি হয় না, এটি ছিল আমাদের বৈশিষ্ট্য। এখানে ইমপিউনিটি (দায়মুক্তি) ছিল এবং এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে, যুক্ত করেন তিনি।