অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর গুরুত্ব সারাবিশ্বে স্বীকৃত কারণ, একটি ছবি হাজার শব্দের চেয়ে কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক এক প্যাকেট সিগারেট ব্যবহারকারী একজন ধূমপায়ী সিগারেট কেনা ও ব্যবহার করার সময় দিনে কমপক্ষে ২০ বার, বছরে ৭ হাজার বার সিগারেটের প্যাকেটে ছাপানো ছবি দেখে থাকে। তাই স্বাস্থ্য সতর্কবাণী এমন একটি কার্যকর এবং সরকারের জন্য সাশ্রয়ী পন্থা, যা তামাক ব্যবহারের সময় প্রতিবারই ব্যবহারকারীকে তামাকের ক্ষতি সম্পর্কিত বার্তা দিতে পারে বলে মতামত দিয়েছেন আলোচকরা।
অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগ্রেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিকের সভাপতিত্বে নাটাবের সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টু, ডা. অরূপ রতন চৌধুরীসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার সমন্বয়ক হাসান শাহরিয়ার।
‘তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৩’ ও এর বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী আগামী ১৯ মার্চ ২০১৬ তারিখের মধ্যে সকল তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন বা কৌটায় তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কিত রঙিন ছবি ও লেখা সংবলিত স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ করা বাধ্যতামূলক রয়েছে। বাংলাদেশে এই উদ্যোগটির গুরুত্ব অনেক বেশি কারণ, এদেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ লেখা-পড়া জানেন না। আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে তামাকের প্রচার প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকায় তামাক কোম্পানিগুলো তামাকপণ্যের মোড়ককে বিজ্ঞাপনের হাতিয়ায় হিসেবে ব্যবহার করে। তাই সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ করা হলে তাদের সেই ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ কারণেই সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের একেবারে শেষ প্রান্তে এসেও তামাক কোম্পানিগুলো এই বিধান প্রতিপালনে গড়িমসি করছে। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা যথাসময়ে তামাক পণ্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
/জেএ/এমএনএইচ/