ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা চাইলেন প্রণয় ভার্মা

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার ক্ষেত্রে ভারতীয়দের নিরাপত্তা চাইলেন প্রণয় ভার্মা। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় এই হাইকমিশনার বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে দেখা করে এই অনুরোধ জানান। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তাদের মধ্যে বৈঠক হয়।  

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বাংলাদেশের চলমান প্রকল্পগুলো থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বেশিরভাগ নিজ দেশে ফেরত চলে যান। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ভারত ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা আজ উপদেষ্টাকে বলেন, তার সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করতে আগ্রহী। চলমান প্রকল্পগুলো সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত কাজ করতে চায়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক ও রেলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। হাইকমিশনার চলমান প্রকল্পগুলোর কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান এবং সব প্রকল্পের কাজ অবিলম্বে শুরু করার আশ্বাস দেন।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই সরকার অন্য সরকারের মতো নয়। এই সরকার বহু ছাত্র-জনতার রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে গঠিত হয়েছে। যারা জীবন দিয়েছে ও আহত হয়েছে তাদের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তিনি এই গুরুদায়িত্ব নিয়েছেন।

উপদেষ্টা জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিতর্কিত আইনগুলো স্থগিত করেছেন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ব্যবস্থা করেছেন। সচিবদের তাদের আওতাধীন কোম্পানির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিচারপতির সমন্বয়ে কমিটি করে আগের চুক্তিগুলো পর্যালোচনা এবং কোনও দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা পর্যালোচনার ব্যবস্থা করছেন। তিনি ইতোমধ্যে রূপসায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পদ্মার রেললাইন ও ব্রিজ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন।

এ সময় সোলার এনার্জি ও ফ্লোটিং সোলার পার্কের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিমসটেক-এর প্রস্তাবনার আলোকে নেপাল, ভুটান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পাওয়ার কানেক্টিভিটি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান, রেলপথ মন্ত্রণালয় সচিব আবদুল বাকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মো. নূরুল আলম উপস্থিত ছিলেন।