জানা গেছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট থেকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কেউ বিকৃত তথ্য প্রদানের চেষ্টা করলে বা সেই চেষ্টাকে সমর্থন করলে তাকে এ শাস্তি দেওয়া হবে। এ আইনের নাম ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ অপরাধ আইন-২০১৬’। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে দণ্ড দ্বিগুণ হবে।
আইন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তা বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তির কাছে রিভিউয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের মতামত পাওয়ার পর চলতি মাসেই খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
খসড়া অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট থেকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিক ঘটনা অস্বীকার করলে, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাকে হেয় করতে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক প্রচার চালালে, সরকারের প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রকাশনার অপব্যাখ্যা করলে, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধ অপরাধকে সমর্থন বা উক্ত অপরাধের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে এই আইনে তার বিচার হবে। এমনকি এইসব অপরাধমূলক কাজের সমর্থনকারীও ওই অভিযোগে অভিযুক্ত হবে।
গত ডিসেম্বর থেকে বিএনপি হঠাৎ করেই মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয়ে নিয়ে বিতর্কিত কথা বলার চেষ্টা করে। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের যে সংখ্যা বলা হয় তা নিয়ে বিতর্ক আছে। বাংলাদেশের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল বলে সরকারিভাবে উল্লেখ করা হয়। দু’দফা ক্ষমতায় থাকার সময়েও খালেদা জিয়া শহীদের সংখ্যা নিয়ে কোনও কথা বলেননি। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছরের মাথায় এসে ঢাকায় আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া এই মন্তব্য করেন।
এর পরপরই জানুয়ারি মাসে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি। কীভাবে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তিনি শুনেছেন। যুদ্ধে যাদের ভূমিকা নেই তাদের দিয়ে জাতির পিতা বা স্বাধীনতার ঘোষক বানাতে চাইলেই বানানো যায় না।
৩০ লাখ শহীদ ও লাখ লাখ মা বোনের সর্বোচ্চ ত্যাগ এবং সংগ্রামের ইতিহাসকে অস্বীকার বা বিকৃতি করার চেষ্টার কারণে গত জানুয়ারিতেই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, জেনোসাইড ডিনায়াল ল করার প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছি আমরা। এর পরপরই মুক্তিযুদ্ধের বিকৃতি প্রতিরোধে আইনের একটি খসড়া প্রণয়নের জন্য আইন কমিশনকে দায়িত্ব দেয় আইন মন্ত্রণালয়।
খসড়া প্রসঙ্গে আইন কমিশনের কাজ নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তারা নিজেদের মতো করে চূড়ান্ত করে আমাদের এখানে পাঠালেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই আইনের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠিত সত্য নিয়েও যারা বিকৃত তথ্য দেওয়ার সাহস প্রকাশ করেন তাদের জন্য এ আইন জরুরি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই আইনের নজির আছে।
/এজে/