ব্রিটিশদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেবে সরকার

বিমানবন্দরব্রিটিশ সরকারের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠানকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে সরকার। রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং সন্ধ্যায় বলাকা ভবনে পৃথক দুটি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ প্রস্তাবের মধ্যে গ্রুপ ফোরসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বহুজাতিক সংস্থার নাম রয়েছে।
এছাড়া ব্রিটিশ প্রস্তাবের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রীকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈঠক প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈঠকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন ও কার্গো কমপ্লেক্সকে ঢেলে সাজাতে ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনার দিয়েছে। আমরা তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সেবার জন্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম তারা প্রস্তাব করেছে। এছাড়া বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বিষয়ে পরামর্শক নিয়োগের প্রতিষ্ঠানের নামও তারা প্রস্তাব করেছে।’
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমারা ইতিমধ্যে অনেক কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারা আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছে। আমরা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। বৈঠকে তারা আমাদের কাছে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।’

যুক্তরাজ্য গত ৮ মার্চ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কার্গো পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, ৩১ মার্চের মধ্যে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি না হলে ঢাকা-লন্ডন বিমানের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করা হবে।

সূত্র জানায়, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানের করতে পরামর্শ দেয় ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল। বিমান বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীতকরণ এবং ঢাকা থেকে সরাসরি যুক্তরাজ্যে কার্গো ফ্লাইটের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ প্রক্রিয়ায় রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার অ্যালিসন ব্লেকের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহম্মেদ সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান, পররাষ্ট্র সচিব শহুদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম সানাউল হক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভারপ্রাপ্ত ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল হাসনাত জিয়াউল হক ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব এটিএম নাসির মিয়া।

সভায় ব্রিটিশ প্রস্তাবনার আলোকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ৭ সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এই কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ২০ মার্চ এ কমিটির সঙ্গে একটি রিভিউ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র জানায়, গত ৮ মার্চ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন যে চিঠি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠিয়েছিলেন, তার জবাব দু-একদিনের মধ্যে পাঠানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিঠিতে সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে। ডেভিড ক্যামেরন তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরের বড় সমস্যা হচ্ছে নিরাপত্তা কর্মী ও তত্ত্বাবধান কাঠামোর সক্ষমতার অভাব।

/এজে/