এমন যুক্তি দেখিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। রবিবার ‘সড়ক পরিবহন খাতের বিদ্যমান সমস্যা’ নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় এ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ট্রাফিক আইন ভায়োলেশনের জরিমানা খুবই নগণ্য। এটাকে আরও বাড়ানো দরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত এই আইন তৈরি করে আমরা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতউল্লাহ তখন বলেন, বর্তমান আইনে যে অপরাধের জন্য দেড় হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে, নতুন আইনে ওই জরিমানা ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাস্তায় গাড়ি রাখার নির্ধারিত স্থান নেই। তাহলে গাড়ি রাখব কোথায়? পুলিশ অবৈধ পার্কিংয়ের অভিযোগে নিয়মিত মামলা করছে। এসবে আমরা আপত্তি জানাচ্ছি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ঠিক আছে। আইন তো এখনই পাস হচ্ছে না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সবার মতামত নিয়ে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। এপ্রিল মাসে আইনটি নিয়ে একটা ওয়ার্কশপ করা হবে। সেখান থেকে পাওয়া প্রস্তাব ও সুপারিশ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করা হবে।
জানা গেছে, সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা আনতে মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩-এর পরিবর্তে সরকার ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৬’ প্রণয়ন করছে। এই আইনের খসড়া গত ২৪ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে মতামত প্রদানের জন্য প্রকাশ করা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি ছিল মতামত প্রদানের শেষ দিন।
জানা গেছে, ‘সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার সামাজিক জোটের’ পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বরাবরে পত্র দিয়ে এ বিষয়ে মতামত প্রদানের সময় বৃদ্ধির অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অতীতের মতো এবারও সংশ্লিষ্টদের বাদ দিয়ে আইন চূড়ান্ত করা হলে পরিবহন খাতের নৈরাজ্য কখনও বন্ধ হবে না।
/এমএনএইচ/