ডিএমপি সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনীতে নিষ্ঠাবান পেশাদার আচরণকারী সদস্যের অভাব নেই। ডিএমপিতে অনেকেই কাজ করতে চায়। তাই অপেশাদার আচরণকারী পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যাদের ঢাকার বাইরে বদলি করা হবে। কোনও পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুরো পুলিশ বাহিনী বহন করবে না।
গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁও নন্দিপাড়ায় বংশাল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শামীম রেজার গুলিতে ক্যাবল ব্যবসায়ী আল আমিন (২২) গুলিবিদ্ধ হন। বকেয়া ডিস বিল চাওয়ায় তাকে গুলি করা হয়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ভিকটিম আল আমিন খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এএসআই শামীম বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন।
এর আগে মোহাম্মদপুরে এক শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির চেষ্টায় আদাবর থানার এসআই ( সহকারী পরিদর্শক) রতনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, শাহ আলীতে চা-দোকানীকে পুড়িয়ে হত্যা, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা ও ডিএসসিসি কর্মকর্তাকে অকারণে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে এসেছে, যা সামাল দিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের বেগ পেতে হয়েছে। পুলিশের এমন আচরণে সরকারি দলের নেতারও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
এসব ঘটনায় অপরাধী বা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত প্রত্যাহার করে ডিএমপিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। কারো কারো ডিমোশন দেওয়া হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে এখনও তদন্ত চলছে।
পুলিশ সদস্যদের আচরণগত সমস্যা নজরদারিতে রাখছে পুলিশের নিজস্ব গোপন শাখার সদস্যরা। এবিষয়ে ডিএমপি সদর দফতরে আপডেট জানানো হচ্ছে নিয়মিত। কারো বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ঢাকার বাইরে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পুলিশের আচরণগত ত্রুটি ঠিক করতে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ব্যাপক প্রশিক্ষণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। বাহিনীর সদস্যের বোঝানোর চেষ্টা চলছে পুলিশ বাহিনী এখন সার্ভিসে পরিণত হয়েছে। মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
গুঞ্জন ছিল এটিএম জালিয়াতির মূল হোতা বিদেশি নাগরিক পিওটর সিজোফেনের সঙ্গে গুলশানের কয়েক পুলিশ সদস্যের সখ্যতা ছিল। তাদের শাস্তিযোগ্য বদলি করা হয়েছে। তবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন,‘এই ঘটনায় কাউকে বদলি করা হয়নি। ডিএমপিতে ৩০ হাজার পুলিশ সদস্য রয়েছেন। প্রতিদিনই কেউ না কেউ বদলি হয়ে থাকেন। এটা ডিএমপির রুটিন ওয়ার্ক।’
তিনি বলেন, ‘পিওটরের সঙ্গে কোনও পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে তার সঙ্গে কারও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল কি-না আদালতে দেওয়া পিওটরের জবানবন্দি হাতে পেলে তা জানা যাবে। তাতে কোনও পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
/এআরআর/ এমএসএম