খাদ্যমন্ত্রীর পর নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীও



আ ক ম মোজাম্মেল হকখাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের পর মীর কাসেমের মামলা নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালতে আবেদন দাখিল করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এর আগে সকালে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়ে ব্যাখ্যা হাজির করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সোমবার বিকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড চৌধুরী মো. জাহাঙ্গীর এ আবেদনটি উপস্থাপন করেন। মঙ্গলবার সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক এ বিষয়ে আদালতে শুনানি করবেন।
উল্লেখ্য, ৮ মার্চ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ ১৪ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে তার বক্তব্যের লিখিত ব্যাখ্যা সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এর আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মীর কাসেমের মামলার বিচারকাজে তদন্ত সংস্থার ‘গাফিলতির’ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং তদন্ত সংস্থা যে গাফিলতি করেছে এজন্য তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত।’


পরে মীর কাসেমের আপিলের রায়ের আগে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক আলোচনা সভায় এই দুই মন্ত্রী প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল বলেন, ‘এ মামলার রায় কী হবে তা প্রধান বিচারপতির প্রকাশ্যে আদালতে বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আমি অনুধাবনকরতে পেরেছি। তার বক্তব্যের মধ্যে এটা অনুধাবন করেছি যে, এ মামলায় আর মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ৪৫ বছরে অনেক বিচারপতি এসেছেন ও গেছেন। কিন্তু কেউ তার মতো এতো অতিবক্তব্য দেননি। তার অতিকথনে সুধী সমাজের মানুষ জিহ্বায় কামড় দিচ্ছেন। তাই তাকে অতিকথন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আর তা না হলে সরকারের নতুন করে বিকল্প চিন্তা-ভাবনা করা উচিত বলে আমি মনে করছি।’
সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলছি, এ রায় নিয়ে যে শঙ্কা, তা এখন একটি সংকটে পরিণত হয়েছে।’ রায়ের আগে প্রধান বিচারপতি যদি এমন কথা বলেন তাহলে জাতি কোথায় যাবে বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
/ইউআই/এইচকে/