টাকা চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা

বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগোবাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল আড়াইটায় মতিঝিল থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা।
মতিঝিল থানার ডিউটি অফিসার নিশাদ জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ১৩। মামলাটি সিআইডি  তদন্ত করবে। 
রিজার্ভের টাকা চুরির কেলেঙ্কারি মাথায় নিয়ে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম। প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম থেকে অর্থ স্থানান্তরের যে সংকেতলিপি (সুইফট কোড) ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের কাছে পাঠানো হয়েছিল, তা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকেরই কোড। ওই কোড ব্যবহার করেই ১০১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরিত হয়ে যায় ফিলিপাইনে। এ কারণে দেশের অভ্যন্তরের কোনও একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ পাচার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ দু-একজন কর্মকর্তাও জড়িত থাকতে পারেন বলে মনে করছে চুরির ঘটনা তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

তবে, এই ঘটনার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনও কর্মকর্তা জড়িত থাকার খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র আফম  আসাদুজ্জামান।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনও কর্মকর্তার আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ, এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।

অবশ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে স্বীকার করেছেন যে, তাদের কম্পিউটার সিস্টেমে দুর্বলতা ছিল এবং এ সমস্যা পুরোপুরি ঠিক করতে দুই বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

/এআরআর/ এসএনএইচ