প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গভর্নর সরে না দাঁড়ালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন আগে থেকেই। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত সোমবার তার এ অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। অর্থমন্ত্রীর এমন অনড় অবস্থানই ড. আতিউর রহমানের পদত্যাগের ঘটনাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়েছে। না হলে ড. আতিউর রহমানকে সরে দাঁড়াতে হতো ঠিকই। তবে, আরও কিছু সময় হয়ত তিনি পেতেন।
জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর অনড় অবস্থান ও প্রধানমন্ত্রীর আনুকূল্য না পেয়ে গভর্নর ড. আতিউর রহমানও আর সময় না নিয়ে সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিজার্ভের অর্থ লোপাটের ঘটনায় ড. আতিউরের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হলেও বিষয়টি সম্পর্কে আরও গভীরে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে চেয়েছেন। সে কারণে হয়ত গভর্নর আরও কয়েকটা দিন স্বপদে থাকতে পারতেন। অর্থমন্ত্রী বিগড়ে যাওয়ার কারণে ড. আতিউর রহমানকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত দ্রুত গতিতে নেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রভাবশালী একজন মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশে ফেরার পরে ড. আতিউর রহমান একদিনও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে স্বপদে থাকুক তা চাননি অর্থমন্ত্রী। মন্ত্রীর অবস্থান ছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গভর্নরকে বিদায় দেওয়া। শেষ পর্যন্ত তাকে সরিয়ে এ ঘটনা সুরাহা হোক তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
জানা গেছে, গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থমন্ত্রী কড়া সমালোচনা করেন গভর্নরের। এক পর্যায়ে মন্ত্রী উত্তেজিত হয়ে পড়লে মন্ত্রিসভার দুই সদস্য তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
/এমএনএইচ/