একইসঙ্গে আচরণ বিধি প্রতিপালন তদারকিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার (এসপি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নতুন করে নির্দেশনা পাঠিয়েছে কমিশন। এছাড়া তফসিল ঘোষিত ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত এবং ইউপি নির্বাচনে অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক আচরণে একজন ইউএনও ও দুইজন ওসিকে প্রত্যাহারের চিন্তা করছে কমিশন।
ইসি সূত্র জানায়,ইউপি নির্বাচনের ভোটের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে সংঘাত-সহিংসতার মাত্রাও তত বাড়ছে। একইসঙ্গে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনাও বাড়ছে। যার চিত্র গণমাধ্যমের প্রতিদিনকার সংবাদে ফুটে উঠছে। এসব ঘটনায় প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ইসির ইমেজও নষ্ট হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে কমিশনের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সকল রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে কমিশন থেকে সকল রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে,আচরণ বিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করার জন্য ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টীম গঠনের জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টীমের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা প্রদান করেছে। এছাড়া ইতোমধ্যে যে সকল প্রার্থী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছেন তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর ৩১ বিধি অনুসারে মামলা করার জন্য নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা প্রদান করেছে।
এছাড়া স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে আচরণ বিধি প্রতিপালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর এক চিঠিতে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং নেওয়া ব্যবস্থা প্রতিবেদন আকারে কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান,তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ কমিশনে জমা পড়েছে। ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আজীমের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা,প্রার্থীদের পোষ্টার ছিড়ে ফেলাসহ নানান অপরাধের অভিযোগ কমিশনে দাখিল করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মন্টু। ওই অভিযোগের সঙ্গে একটি সিডিও জমা দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে কমিশন। এছাড়া ঝালকাঠী-১ আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী এলাকায় সরকারি সফর ও বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধনের শিডিউলসহ অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনে। এর আগে পাবনা-২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্যকে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে শোকজ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশনা দেয় কমিশন।
ইসি সূত্র জানায়,নির্বাচনে পক্ষপাতের অভিযোগে বাগেরহাটের একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং দু’টি থানার ওসি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার ইউপি নির্বাচনে এই দুই উপজেলাসহ বাগেরহাটের বেশিরভাগ ইউপিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আইনগতভাবে বিষয়টি বৈধ হলেও কমিশনের কাছে এ ধরনের ঘটনাকে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আচরণ বিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে এই কমিশনার বলেন, আচরণ বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। কারো বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মামলা দায়ের করতে বলা হয়েছে।
ইএইচএস/এমএসএম