ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের বক্তব্য নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা

এ সপ্তাহে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য ও ব্রিটিশ অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুককে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠান উপদেষ্টা এবং সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পরে তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে ডেকে ছিলাম দুটি কারণে। গত ২ ডিসেম্বর ব্রিটিশ সংসদে কয়েকজন সংসদ সদস্য বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির ওপর। তাদের বক্তব্যে কিছু অপতথ্য আছে এবং সেটি আমরা রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছি। তাকে আমি বলেছি যে চারদিকে অপতথ্যের যে ফলাও প্রচার চলছে, মনে হয় সেখান থেকে সংসদ সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করেছেন।’

সংসদ সদস্যদের কথায় প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে অনুরোধ করেছি আমাদের অবস্থান যেন তিনি তাদের চ্যানেলে জানান। তিনি ও পরামর্শ দিয়েছেন যে আপনারা আপনাদের দূতাবাসের মাধ্যমে জানান এবং আমরাও জানাবো।’

ব্রিটিশ অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেখানে খুব দুঃখজনকভাবে যেটা এসেছে– আমি রাষ্ট্রদূতকে বলেছিও যে আমরা খুব ব্যথিত– সেখানে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে ৫ আগস্টের পরে বেশি মৃত্যু হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ৫ আগস্টের আগের কথা বলা হয়েছে ২৮০ জন মারা গেছে এবং মোট সংখ্যা এক হাজারের বেশি।’

তিনি বলেন, ’বিষয়টি সেরকম নয়। ৫ আগস্ট এবং তার আগে অন্তত দেড় হাজার ছেলে-মেয়ে মারা গেছে। এরমধ্যে ৭৮০ জনের নামসহ বৃত্তান্ত আমরা জানি। বাকি অনেকের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, কিন্তু মৃতদেহ পাওয়া গেছে এবং তারা মারা গেছে আগে– এটিতে কোনও সন্দেহ নেই। এরপরে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু যেভাবে এটি চিত্রায়িত করা হয়েছে, সেটি সঠিক নয়।’

তিনি আরও বলেন, ’এত বড় যে একটি ঘটনা ঘটেছে, সেটির কোনও উল্লেখ নেই। এখানে বিপুল সংখ্যক ছেলে-মেয়েকে রাস্তাঘাটে গুলি করে মারা হয়েছে– সেটির কোনও উল্লেখ নেই।’

কোলকাতায় মেমোরেন্ডাম

এদিকে বুধবার কোলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ একটি মেমোরেন্ডাম দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন সদস্য মিশনে উপস্থিত হয়ে মেমোরেন্ডামটি হস্তান্তর করে। মেমোরেন্ডামে চিন্ময় দাসের গ্রেফতার এবং হিন্দু নির্যাতনের বিষয়ে তাদের বক্তব্য রয়েছে বলে জানিয়েছে মিশনের একটি সূত্র।

ত্রিপুরাতে বাংলাদেশ মিশনে সোমবার হামলার পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অনুরোধ জানানোর পরে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় বলে তিনি জানান।