অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের বিষয়ে রমনার সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রালের ফাদার আলবার্ট রোজারিও জানান, গতকাল রাজনৈতিক দলগুলো এসে যে কথা বলে গেছে তার সঙ্গে আমরা একাত্মতা পোষণ করেছি। এই মুহূর্তে আমরা একটা স্পর্শকাতর সময় পার করছি। এই সময়ে আমাদের প্রধান কথা ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ইসকনের ঘটনার প্রেক্ষিতে মানুষের মনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে সেই ক্ষত দূর করতে হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা কষ্টে আছেন, যাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে তাদের অনেকেই আজ আসেন নাই। তাদেরকে নিয়ে যেন প্রধান উপদেষ্টা বসেন, আমি এই কথা বলে এসেছি। পাশাপাশি বলেছি, আমরা যেন এমন একটা আয়োজন করি যাতে সারা পৃথিবীর মানুষ জানতে পারে যে বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির মধ্যে আছে, তারা মিলেমিশে থাকে, তারা একসাথে পথ চলে। অ্যাডভোকেট মারা যাওয়ার ঘটনায় দেশের মানুষ অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। এরপরেও ভারতের কিছু মিডিয়া উসকানিমূলক সংবাদ প্রচার করেছে যার সাথে বাস্তবতার মিল নেই। বারবার আমাদের সম্প্রীতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আমরা আরেকটা বিষয় জোর দিয়ে বলেছি যে, আমাদের ইসকনের যে ভাই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন তার আইনে যদি পথ খোলা থাকে জামিনের বিষয়টা যেন বিবেচনা করা হয়।
রমনা হরিচাঁদ মন্দিরের সহ-সম্পাদক অবিনাশ মিত্র বলেন, আমরা যারা বাংলাদেশে আছি। আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। কিন্তু বিভেদটা কোথায়? যারা বিভেদ তৈরি করছে তারা বিদেশে বসে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। তারা খারাপ স্বার্থ হাসিল করবে এটা আমরা চাই না। এটা বাংলাদেশ। এখানে আমরা সবাই সমানভাবে মিলেমিশে আছি। কোনও তো সমস্যা নাই। যারা আমাদের অ্যাডভোকেট ভাইকে মেরেছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান অবিনাশ মিত্র।
গারো পুরোহিত জনসন ম্যুরি কামাল বলেন, আমরা ঐক্য হয়েছি, যে মিডিয়া অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের আমরা প্রতিরোধ করবো। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। এই সরকারকে আমরা সহযোগিতা করবো।