মোজাম্বিকে ৫শ’ বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকান লুটপাট

মোজাম্বিকে বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকান লুটপাট ও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়ায় অনেক বাংলাদেশি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। মোজাম্বিকে রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার কারণে ওইদেশে বসবাসরত প্রায় ৫,০০০ প্রবাসী বাংলাদেশি, যারা মূলত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, এই সংকটে আর্থিক এবং মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মাপুটো, নাম্পুলা এবং জাম্বেজিয়া প্রভিন্সে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মোজাম্বিকে বসবাসরত বাংলাদেশিরা মূলত ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের বেশিরভাগই মুদি দোকান পরিচালনা করেন। এছাড়া, বেশকিছু সংখ্যক বাংলাদেশি কৃষি খাতে নিয়োজিত আছেন।’

বাংলাদেশ দূতাবাস, লিসবন, মোজাম্বিকের সমবর্তী দায়িত্বে রয়েছে এবং মোজাম্বিকে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিউনিটির নেতাদের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। মোজাম্বিকে বাংলাদেশি কমিউনিটির সুরক্ষার জন্য লিসবনে অবস্থিত মোজাম্বিক দূতাবাসের মাধ্যমে মোজাম্বিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দূতাবাস অনুরোধ করেছে। মাপুটোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি অনারারি কনসাল ও মোজাম্বিকের বাংলাদেশি কমিউনিটির আহ্বায়কের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘এইরূপ পরিস্থিতিতে অল্প কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি তাদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। এর সঠিক সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভৌগলিক সন্নিকটতার কারণে প্রিটোরিয়াতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে মালাউ-এর ব্ল্যানটিয়ার শহরে গিয়ে দেশে ফিরতে আগ্রহীদেরকে প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা প্রদান করার জন্য। বাংলাদেশ হাইকমিশনও মাপুটোর কাছে একটি অধিকতর নিরাপদ স্থান হতে কনস্যুলার সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে।’