দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতে টিকা রফতানি করা হবে উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, লাম্পি স্কিন ডিজিসের (এলএসডি) বিষয়ে খামারিদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রতিষেধক উৎপাদনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়িত “জুনোসিস এবং আন্তঃসীমান্তীয় প্রাণিরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ গবেষণা” শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভ্যাকসিন সিড হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এ সময় প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ আন্তঃসীমান্তীয় প্রাণিরোগ; আর এ রোগে মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। টিকা উৎপাদন করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, গবাদি পশুর এই রোগে কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে তা দ্রুত নিরূপণ করতে হবে। তিনি গবেষণা ও পরীক্ষাগারগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন রোগ জীবাণুর আক্রমণ হচ্ছে। এজন্য সরকার বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
উপদেষ্টা বলেন, আক্রান্ত গরুর মাংস খেলে মানুষের কোনও ক্ষতি হবে কিনা তা নির্ণয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের এলএসডি রোগের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যেতে হবে।
বক্তারা বলেন, প্রতি বছর লাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রাণিসম্পদ খাতের মারাত্মক আর্থিক ও বাণিজ্যিক ক্ষতি সাধন করছে। এছাড়া বিদেশি ভ্যাকসিন আমদানি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাজারেও তা অপ্রতুল। এক্ষেত্রে বিএলআরআই উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি স্বল্পমূল্যে সহজলভ্য করা সম্ভব।
বিএলআরআই’র মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমেনা বেগম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিএলআরআই, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এ বি এম মুস্তানুর রহমান। এলএসডি ভ্যাকসিনের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএলআরআই’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টারের দফতর প্রধান ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর বিশেষজ্ঞ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বাহানুর রহমান এবং বাংলাদেশ সিস্টেমস স্ট্রেন্থেনিং ফর ওয়ান হেলথের চিফ অব পার্টি প্রফেসর ড. নিতীশ চন্দ্র দেবনাথ।
এর পূর্বে উপদেষ্টা বিএলআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভ্যাকসিনটি বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদন ও খামারি পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এসময় ভ্যাকসিন বিষয়ক একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং ভ্যাকসিনটির প্রোডাকশন ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।