ঘটনাটি ঘটেছে বাড্ডার স্যার জন উইলসন স্কুলে। তবে দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের বিষয়ে মুখ খুলছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে পুরো বিষয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছেন অভিভাবক মিনহাজ।
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জেনে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তারা অভিভাবককে ক্ষমা চেয়ে চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিতে বলেন। তবে সেটা করেও শেষ রক্ষা হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন অভিভাবক।
মিনহাজ বলেন, আমি তো সবদিক বর্ণনা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছি। কিন্তু তারা এভাবে চায়নি। এই চিঠির বিষয়ে বোর্ডে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও আমার ছেলেমেয়েদের বিষয়ে বোর্ডে নাকি কেউ একক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা জানি না।
এদিকে ঘটনার পর থেকে দুই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, এভাবে অভিভাবকদের সঙ্গে তর্কের জেরে শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের কোনও নিয়ম থাকতে পারে না।
ভুক্তভোগী পিতা মিনহাজ বলেন, ১০ মার্চ তার ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গেলে ওই স্কুলের অভ্যর্থনা কক্ষে থাকা কর্মী জানতে চান, স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কেমন হয়েছে। ওই কর্মীর কথার জবাবে তিনি বলেন, ভালোই। কিন্তু স্কুলের মাঠটি এতই ছোট যে সেখানে ঠিকভাবে খেলাধুলা করা যায় না। এ সময় রিসিপশনের কর্মী মাঠ না থাকার বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানাতে বলেন। কর্মীর সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে নিজেকে প্রকল্প পরিচালক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।
মিনহাজ আহমেদ বলেন, আমি তাদের বলি স্কুলটি যেহেতু নিজের জায়গায় জমি কিনে ভবন করেছে, সেখানে মাঠটা একটু বড় করলেই হতো। এতে ওই ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে তর্ক শুরু করেন। ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর ওই দিনই বিকেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে জানায়, আমার দুই সন্তান আর এই স্কুলে পড়তে পারবে না।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন এবং পুরো ঘটনা জানিয়ে ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর দুঃখ প্রকাশ করে চিঠিও দেন। কিন্তু এরপরও শিশুরা স্কুলে যাওয়ার অনুমতি পায়নি।
স্কুলের অধ্যক্ষ মির্জা টিএইচ বেগ বাংলা ট্রিবিউনের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছেলেমেয়েদের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বোর্ড নেবে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
অভিভাবকের সঙ্গে তর্কের কারণে শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া যায় কি না- প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রশ্ন আপনি আমাকে করতে পারেন না, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার বোর্ড নেবে।
প্রজেক্ট ডিরেক্টর এমএ রউফকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের একজন হিসেবে আমি এই বিষয়ে কথা বলার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত কেউ না। কোন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলা নিষেধ আছে। আমি কথা বলতে পারব না।
এটা কোনওভাবেই স্কুল কর্তৃপক্ষ করতে পারে না বলে মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, শিশু তার স্কুলিংয়ের অধিকার নিয়ে পড়তে গেছে। শিশুর প্রতি এ ধরনের আচরণ কর্তৃপক্ষ করতে পারে না। অভিভাবক চাইলে আইনিভাবে এটা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে।
ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, অভিভাবকের সঙ্গে যেকোনও ধরনের বাকবিতণ্ডা যদি ঘটেও থাকে তার প্রভাব শিক্ষার্থীর ওপর কেন বর্তাবে। আমাদের এখানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর জন্য ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকায় এ ধরনের অনেক উদাহরণ তারা সৃষ্টি করে থাকে।
/এজে/