রাখাইন ও মিয়ানমার পরিস্থিতি খারাপ, জটিল, অস্থির ও ক্রমপরিবর্তন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেনেন্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ। তার মতে, এই মুহূর্তে এই ঘোলাটে পরিস্থিতি সুযোগ নিয়ে কীভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করা যায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে এক কলোকিয়ামে তিনি বলেন যে আমাদের দক্ষ কূটনীতি অনুসরণ করতে হবে এবং এটিকে সহায়তা করার জন্য দৃঢ় সামরিক শক্তিও থাকতে হবে।
রাখাইনে অল্প কিছু অঞ্চল বাদ দিলে পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করছে আরাকান আর্মি এবং তাদের সঙ্গে ভারত ও চীনের যোগাযোগ আছে। এই অবস্থায় আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশ যোগাযোগ একটি ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে, একইসঙ্গে আমাদেরকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মোহাম্মাদ সুফিউর রহমান তার প্রেজেন্টেশনে বলেন যে রাজনৈতিকভাবে রাখাইন পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। আরাকান আর্মি সেখানে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতায় রয়েছে।
সংঘাতের কারণে রাখাইনে বাস্তচ্যুতের সংখ্যা অনেক বেড়েছে এবং সেখানে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান।
রাখাইনকে স্থিতিশীল করার জন্য বাংলাদেশ সম্ভাব্য ভূমিকা রাখতে পারে এবং দুইদেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, রাখাইনের জন্য চিটাগাং বন্দরের ব্যবহার সহজ করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে বলে তিনি জানান।
তবে তিনি বলেন যে রাখাইনকে সহায়তা করার সময়ে মনে রাখতে হবে যে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো এবং সেজন্য বিষয়টিকে সবসময়ে সামনে আনতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) হাসান মো. সামসুদ্দিন বলেন যে রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি টাউনশিপ আরাকান আর্মির দখলে। তারা রাখাইনের জনমিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।