জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলেছেন, আইন প্রয়োগকারী ও অমান্যকারীদের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত ভারসম্য থাকা দরকার। আইন প্রয়োগ করা যতটুকু সহজ, ভিন্ন চিত্র তৈরি হলে তখন এটা যেকোনও প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যালেঞ্জিং। আমাদের জন্য এটা চ্যালেঞ্জিং বলা যায়।
রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ভোক্তা অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বাজারব্যবস্থা পুরোপুরি মুক্ত না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে দুর্বৃত্তায়ন তৈরি হয়েছিল, এই দুর্বৃত্তদের একটি অংশ এখনও বাজারে আছে। উল্টোদিকে এখন যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তারা কোনও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে নেই। প্রধান উপদেষ্টার কোনও রাজনৈতিককর্মী বাহিনী নেই। আমরা একমাত্র তার লোক। প্রত্যেক উপদেষ্টাই ব্যক্তি। এই সুযোগ দুর্বৃত্তরা এখনও নিচ্ছে। যারা এখনও রয়ে গেছে, তারা গত ৫ আগস্ট জন্ম নেয়নি, তারা অনেক আগেই জন্ম নিয়েছে। তাদের হঠাৎ করে পরিবর্তন করা খুব কঠিন।’
আলীম আখতার খান বলেন, ‘ভোজ্যতেল ছাড়া রমজানে আরও যেসব পণ্য আছে যেমন- খেজুর, মসলা জাতীয় কিছু পণ্য, ছোলা, ফল, এগুলোর পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। আমরা যেটা দেখেছি, বাজারে আমদানি ও সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে। ভোজ্যতেল নিয়ে আমাদের মধ্যে এখনও একটা অস্বস্তি আছে। এই অস্বস্তি থাকার কথা ছিল না। বাজারে এখনও যতটুকু সরবরাহ আছে, সেটি পর্যাপ্ত কিনা বলা যাবে না। তবে আমার মনে হচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীরা এর সুযোগ নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে টিসিবির মাধ্যমে ট্রাকসেল কর্মসূচি চালু করেছে। এছাড়াও কিছু কিছু কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান আমার কাছে চিঠি দিচ্ছে, রমজানে তারা বিভিন্ন জায়গায় স্বল্পমূল্যে পণ্য দিতে চায়। দুই সিটি করপোরেশন ও ডিএমপির কাছে তাদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
ভোক্তার ডিজি বলেন, ‘আমি আমার কাজে শতভাগ সন্তুষ্ট নই। আমাকে আরও বেশি কাজ করতে হবে। ভোক্তাদের জন্য আরও ইফেক্টিভ কাজে আমাকে লিপ্ত হতে হবে।’
ভোজ্যতেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তেলের ছয়টি রিফাইনারি আছে। এর মধ্যে তিনটি রিফাইনারির তথ্য লিখিতভাবে পেয়েছি। একইসঙ্গে বাকিদের নোটিস দিয়ে শোকজ করেছি।’