নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত রাখতে ষষ্ঠবারের মতো আবেদন করেছেন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র্যাব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ।
সোমবার সকালে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণের দিন এ দুইজনের আইনজীবীরা সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত করার আবেদন করেন। তবে আদালত এ ব্যাপারে কোনও আদেশ দেননি। এর আগে পাঁচবার এ দুইজনের পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। সর্বশেষ গত ১৪ মার্চ তাদের পক্ষে সময় আবেদন করা হয়।
এদিকে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ২৩ আসামির উপস্থিতিতে সাক্ষীদের কয়েকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিনের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
সোমবার সাত খুনের একটি মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে শুনানির শুরুতে আদালতে তারেক সাঈদ ও নূর হোসেনের পক্ষে আইনজীবীরা আদালতকে জানান, সাত খুন মামলা বাতিল ও অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। তাই এখন বাদীকে (সেলিনা ইসলাম বিউটি) ও এ দুইজনের (তারেক সাঈদ ও নূর হোসেন) পক্ষে জেরা করা যাচ্ছে না। সময় প্রয়োজন।
সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতার রয়েছেন ২৩ জন। পলাতক ১২ জন। সাত খুনের ঘটনায় দুই মামলায় অভিন্ন সাক্ষী ১২৭ জন। এ কারণে উভয় মামলার সাক্ষীদের একইসঙ্গে জেরা করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানের অভিযোগ, শুরুতে মামলার যে গতি ছিল সেটা এখন কমিয়ে আনা হয়েছে। বারবার আসামি পক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের কারণে মামলাটি ভিন্নদিকে যাচ্ছে। এতে করে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কা আছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে পাঁচ আসামিকে বাদ দেওয়ায় এবং প্রধান আসামি নূর হোসেনের জবানবন্দি ছাড়া অভিযোগপত্র আদালত আমলে নেওয়ায় ‘নারাজি’ আবেদন করেন সেলিনা ইসলাম বিউটি। আবেদনটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জজ আদালতে খারিজ হয়ে গেলে বিউটি উচ্চ আদালতে যান। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, পুলিশ চাইলে মামলাটির ‘অধিকতর তদন্ত’ করতে পারে এবং ‘হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার’ ধারা যুক্ত করে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারে।
/বিটি/এসটি/