রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিষয়ে রিট বাতিলের দাবি হেফাজতের

হেফাজতে ইসলামসংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের অন্তর্ভুক্তির বিধান বিষয়ে রিট আবেদন বাতিলের দাবি জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের অন্তর্ভুক্তি বাতিল হলে দেশে নাস্তিকতাবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি নষ্ট হবে বলে দাবি করেছেন হেফাজতের নেতারা।
সোমবার (২১ মার্চ) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ‘সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘আমরা আদালতকে মানি। তবে আশা করি আদালত এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না যাতে তৌহিদি জনতা মাঠে নামে এবং দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’
হেফাজতের সেক্রেটারি জেনারেল আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, জনস্বার্থ ও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনতার আবেগের কথা চিন্তা করে হাইকোর্টের প্রতি ওই রিট বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ২৫ মার্চ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ এবং জুমার নামাজের পর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রশ্নে প্রয়োজনে ‘গণভোট’ আয়োজনেরও দাবি তুলেছেন হেফাজত নেতারা।

 

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালের ৫ জুন অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২-এর পর ২ (ক) যুক্ত করা হয় এবং এতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে’। রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে এই পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির’ পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

২৮ বছর আগের ওই আবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া রুলের ওপর আগামী ২৭ মার্চ হাইকোর্টের বৃহ্ত্তর বেঞ্চে শুনানি শুরু হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই হেফাজতের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।

হেফাজতের মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘১৯৮৮ সালে এরকম একটি রিট করা হলে আদালত তা সঙ্গে সঙ্গে খারিজ করে দিয়েছিলেন। বর্তমান আদালত কেন এই রিট খারিজ না করে গ্রহণ করলো? ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে এরকম রিট গ্রহণ করা যায় না। আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কোনও কুচক্রিমহল পাখি শিকার করতে চাইছে।’

অন্যদের মধ্যে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দীন রূহী, সিনিয়র নায়েবে আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, সহ অর্থ সম্পাদক মাওলানা ইলিয়াছ ওসমানী, উত্তর জেলার সহ-সম্পাদক ইছহাক মেহরী, মাওলানা আ ন ম আহমদ উল্লাহ ও মাওলানা মুনির আহমদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

/এফএস / এএইচ/