ধর্ম নিয়ে কেউ কোনও কটাক্ষ করুক, এটা আমরা চাই না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ধর্ম নিয়ে কেউ কোনও কটাক্ষ করুক, এটা আমরা চাই না। আমার নিজের ধর্ম যেমন পালন করি, দেশে অন্য ধর্মের যারা আছেন তাদের আমি সম্মান করি।তাদের ধর্ম তারা শান্তিপূর্ণভাবে পালন করুক। আমরা যদি তাদের সে সুযোগ না দেই আজকে বিশ্বের যেসব দেশে মুসলমান কম তাদের ভাগ্যে কি ঘটবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় খতিব সম্মেলন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে আলেম সমাজের সহযোগিতা চেয়েছেন ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যুক্ত তাদের কোনও ধর্ম নাই, সীমা রেখাও নাই।ইসলাম ধর্মে কোনও জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের স্থান নেই। ইসলাম  শান্তির ধর্ম, ইসলাম পবিত্র ধর্ম। ইসলাম কখনও বোমাবাজি বা সন্ত্রাসকে বরদাস্ত করে না। মুষ্টিমেয় কয়েকটি লোকের জন্য, আমাদের এত বড় দুর্নাম। এটা সত্যিই কষ্টকর।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘নাশকতা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, এগুলো ইসলাম ধর্মে নাই সেটা ভালোভাবে প্রচার করবেন। যারা এসব কর্মকান্ড করে; আমরা চাই আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ জনগণ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন, সজাগ থাকবেন। বিপথে গিয়ে কেউ যেন ইসলামের বদনাম করতে না পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরআন পড়ে মানুষ সত্যিকার ধর্মে কি বলে সেটা শিখবে, জঙ্গি-সন্ত্রাসের পথ পরিহার করবে এবং ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। যার যার ধর্ম তিনি পালন করবেন। মানুষকে সেভাবে গড়ে তুলতে আলেম সমাজ কাজ করবেন।

ইসলামের সঙ্গে জঙ্গিবাদকে জড়ানোর প্রতিবাদ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইতালিতে একটি অনুষ্ঠানে একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন ইসলামিস্ট টেরোরিস্ট, এটা শুনার সঙ্গে সঙ্গে  মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ হয়ে গেলো। আমার যখন বক্তৃতার সুযোগ আসলো তখন আমি সোজা বললাম যারা টেরোরিস্ট বা সন্ত্রাসী বা জঙ্গি, ওই জঙ্গিবাদ- সন্ত্রাস ওটাই তাদের ধর্ম। আমার ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম, পবিত্র ধর্ম।

 ফিলিস্তিনে গণহত্যার কপ্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, অন্তঃসত্ত্বা মায়েদেরও হত্যা করা হচ্ছে। এটা কি সন্ত্রাস নয়, জঙ্গিবাদ নয়, এটাও সন্ত্রাস, তো এটা বলেন না কেন। আরো অনেক দেশ ছিলো কেউ কিছু বলেনি।

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ওপর বার বার হামলা করেছে। আল্লাহ জীবন দেবার মালিক, জীবন নেবার মালিক। আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সময় বিশ্বাস করি, প্রত্যেকটা মানুষকে আল্লাহ একটা কাজ দিয়ে পাঠান। সেই কাজটা তাকে দিয়ে সম্পন্ন করান। যতক্ষণ সম্পন্ন না করান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন সেটা হেফাজত করবেন। একমাত্র মাথা নোয়াবো আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আর কারো কাছে নয়।’

 বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের সহিংস আন্দোলন, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে আগুন দিয়ে কোরআন পোড়ানোর ঘটনার কথা উল্লেখ করে আলেম সমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের কাজ করতে না পারে, সে ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি। একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে কিভাবে হত্যা করতে পারে।আমরা দেখেছি প্রায়ই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আমাদের দেশটাকে অস্থিতিশীল করতে চায়। বিএনপি-জামায়াত ইসলামের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 ইসলামের প্রচার-প্রসারে বঙ্গবন্ধুর অবদান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা একজন খাঁটি বাঙালি ছিলেন, একজন খাঁটি মুসলমান ছিলেন। মনে প্রাণে তিনি একজন খাঁটি ইমানদার ছিলেন। বঙ্গবন্ধু আইন করে মদ, জুয়া, হাউজি, ঘোড়দৌঁড় ও অসামাজিক ‌কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করেন। তিনি ঈদে মিলাদুন্নবী, শবে কদর, শবে বরাতে সরকারি ছুটি ঘোষণা, বিশ্ব ইজতেমার জায়গা ও কাকরাইল মসজিদের সম্প্রসারণের জমি প্রদান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। হজ্ যাত্রীদের জন্য বঙ্গবন্ধু ‘হিজবুল বাহার’ জাহাজ ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জেনারেল জিয়া প্রমোদতরীতে পরিণত করেন। জিয়া সরকার মদ ও জুয়ার অবাধ লাইসেন্স প্রদান করেছিলো।

 মাদ্রাসা উন্নয়নে ১ হাজারের বেশি মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ, ৮০টি মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু, ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের মূলধন গঠন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে ১ হাজার ৫’শত কোটি ৯৩ লাখ টাকা প্রদান, হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বায়তুল মোকাররম মসজিদে ১৭০ ফুট মিনার নির্মাণসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

 অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা ‌কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে কোরান শরিফ বিতরণের উদ্ধোধন করেন। এ কার্যক্রমে সারা দেশের ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭০ কপি কোরআনুল কারিম প্রদান করা হবে।

 ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল জলিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, জাতীয় খতীব কাউন্সিলের আহ্বায়ক মুহাম্মদ জালালুদ্দীন আল-কাদেরী প্রমুখ।

/সিএ /এপিএইচ/