বক্তারা বলেন, আজকে দেশের খেলাধূলা নিয়ে যে পরিমাণ মাতামাতি করা হচ্ছে ঠিক তখনই একজন সাধারণ মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে। অথচ এর বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য কারও মানবিকতাবোধ জেগে উঠছেনা। যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এর জন্য দায়ী আজকের ফ্যাসিবাদী সমাজ ব্যবস্থা।এ থেকে উত্তরণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে এখন থেকেই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সাংস্কৃতিক কর্মী লাবনী মন্ডলের সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিরা।
সমাবেশে সাংস্কৃতিক কর্মী প্রান্ত পলাশ বলেন, ‘যে দেশে প্রতিনিয়ত ধর্ষণের কথা শুনতে হয়, সে দেশকে বাংলাদেশ বলতে লজ্জা হয়। যে দেশের জন্য মানুষ রক্ত দিয়েছে, সেই স্বাধীন দেশে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই ধর্ষণ ও হত্যার খবর শুনতে হয়। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? তাই যার যার জায়গা থেকে এখনই এই হত্যা-ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।’
নাট্য নির্দেশক বাকার বকুল বলেন, ‘বারবার যখন হত্যা-ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে তখন এর বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থাকে কোনও সোচ্চার ভূমিকায় দেখছি না। এছাড়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া। অথচ সেনানিবাসের মতো নিরাপদ একটি জায়গায় যখন এ ধরণের ঘটনা ঘটে তখন বিচার ব্যবস্থার মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।’
ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কুমিল্লায় সেনানিবাসের পাশে যে মেয়েটি হত্যার শিকার হলেন তিনি অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের একজন।।টিউশনি করে তিনি তার পড়াশোনার খরচ চালাতেন। তার মতো সাধারণ পরিবারের অনেক মেয়েকে ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। সমাজের সাধারণ মানুষ হওয়া যদি তাদের অপরাধ হয় তাহলে এর কী কোনও প্রতিরোধ নেই?’
সমাবেশ শেষে আগামীকাল বুধবার বিকেল ৫টায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এসআর/ এপিএইচ/