ব্রাসেলসের বাংলাদেশিরা

আমরা শঙ্কার মধ্যে পরস্পরের খোঁজ নিচ্ছি

111শঙ্কার মধ্যে পরস্পরের খোঁজ নিচ্ছেন ব্রাসেলসে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। বোমা হামলার পর পরস্পর নিরাপদে আছেন কিনা সেটা জানার চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত সবাই ভালো আছেন বলেই জানি। তবে শঙ্কা কাটেনি। ঘটনার পর থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে, তবে ল্যান্ডফোন চালু রয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্যগুলো জানান ব্রাসেলসে অবস্থানরত পারভিন শেলী। তিনি সেন্ট্রাল ব্রাসেলসের লুইস-এ বসবাস করেন। স্থানীয় সময় দুপুর একটা ১২তে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তার সন্তানরা স্কুলে আছেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ টেলিফোন করে দ্রুত সন্তানদের বাসায় নিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। বাচ্চাদের আনতে যাওয়ার পথে তিনি বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন- পথের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘিরে রেখেছে। আপাতত আর কোনও শঙ্কা নেই। এখন সবাই সুস্থ থাকলেই হলো।
কীভাবে পরস্পরের খোঁজ নিচ্ছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে ‘সেফটি আস্ক’ ব্যবহার করছি। সেখানে আমার সঙ্গে যাদের যোগাযোগ আছে তারা যার যার মতো করে উত্তর করে যাচ্ছেন যে কে কীভাবে আছেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার কিছু আগে ব্রাসেলসে জাভেনতেম বিমানবন্দরে জোড়া বিস্ফোরণ ঘটে। ওই হামলায় সংবাদমাধ্যম বিবিসি অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে এ পর্যন্ত ৩৪ জনের প্রাণহানির খবর দিয়েছে। এর এক ঘণ্টা পর ইইউ ইন্সটিটিউশনগুলোর কাছের মানবিক মেট্রো স্টেশনে আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। ওই ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।

পরস্পরের খোঁজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা জানতে ফেসবুকের মাধ্যমে ‘সেফটি আস্ক’ ব্যবহার করা হচ্ছে।

পর পর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে সর্বোচ্চ সন্ত্রাসবিরোধী সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ব্রাসেলসের বিমানবন্দরটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে অন্য দেশ থেকে বেলজিয়ামের দিকে আসা বিমানগুলোকে অন্য বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেট্রো স্টেশনে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেল চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বাস চলাচলও।

/ইউআই /এএইচ/