প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ পাচ্ছে মেট্রোরেল

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে যোগাযোগ খাতের বেশির ভাগ বিভাগের বরাদ্দ কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে রাজধানীতে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।

সোমবার (২ জুন) অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এই বাজেট পেশ করেন।

জাতীয় বাজেটের প্রস্তাবিত নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএমটিসিএলের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ৬০৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ সংস্থার জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা আগের চেয়ে ৪ হাজার ৮৬৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা বেশি।

ডিএমটিসিএল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় এ বরাদ্দ পাবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের যাত্রী পরিবহন বর্তমানে নিয়মিত চলছে। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় আরও ৫টি মেট্রোরেল লাইনের নির্মাণকাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

এছাড়া আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৮০ কোটি ৮৫ লাখ। যা আগের তুলনায় ৮০ কোটি ৮৫ লাখ বেশি।

বাজেটে গত অর্থবছর থেকে এবার ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) জন্য বরাদ্দ কমেছে ৩৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এদিকে সচিবালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বরাদ্দ কমেছে গত অর্থবছর থেকে ১ হাজার ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা—যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এডিপি ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে সংকোচনমূলক বাজেট।

এর আগে সোমবার (২ জুন) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার দফতরে অনুষ্ঠিত হয় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন শেষে তাতে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।