সাজসজ্জার পণ্যে বাজেটের কোপ: বাড়তি খরচ গুনবেন নারীরা

আগামী অর্থবছরের বাজেটে নারীদের সাজসজ্জার পণ্যে ন্যূনতম শুল্কায়নমূল্য দ্বিগুণ করায় এই পণ্যের আমদানিতে শুল্ক-কর বাড়ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। ফলে বিদেশি লিপস্টিক, ফেসওয়াশ, ফাউন্ডেশন, কাজল কিংবা লোশন কিনতে এবার ভোক্তাদের গুনতে হবে বাড়তি টাকা। যদিও শুল্ক-কর হার অপরিবর্তিত, কিন্তু ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের নতুন কাঠামোর ফলে কর কার্যত প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (২ জুন) বাংলাদেশ টেলিভিশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। অর্থ উপদেষ্টার প্রস্তাবে দেখা গেছে, সাজসজ্জার অন্তত ১০টি পণ্যে ন্যূনতম শুল্কায়নমূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে শুধু এই খাত থেকেই বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে সরকার। তবে এর চাপ গিয়ে পড়বে সরাসরি ভোক্তার ওপর।

লিপস্টিকে শুল্ক দ্বিগুণ
বিদেশি লিপস্টিক আমদানিতে এতদিন কেজিপ্রতি ২০ ডলার ন্যূনতম মূল্য ধরে ১৫৭.৩০ শতাংশ হারে শুল্ক-কর আদায় করা হতো। এবার এই মূল্য দ্বিগুণ করে ৪০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রতি কেজিতে শুল্ক-কর দাঁড়াবে প্রায় ৭,৮৩০ টাকা, যা আগে ছিল ৩,৯১৫ টাকা।

লিপ লাইনার, মাশকারা, ফেসওয়াশেও বাড়তি খরচ
একইভাবে লিপ লাইনারের ন্যূনতম শুল্কায়নমূল্য ১০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ ডলার করা হয়েছে। এতে এই পণ্যে কর দাঁড়াবে দ্বিগুণ। চোখ ও ভ্রুর সাজসজ্জায় ব্যবহৃত মাশকারা, আইশ্যাডো, কাজল ইত্যাদির ন্যূনতম মূল্য ৭ ডলার থেকে ১০ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের শুল্ক-কর কেজিপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকায় পৌঁছাবে।

ফেসওয়াশের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম মূল্য সাড়ে ৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি শুল্ক-কর প্রায় ১,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,২০০ টাকায় দাঁড়াবে।

ফাউন্ডেশন থেকে লোশন—সবকিছুতেই বেড়েছে শুল্কায়নমূল্য
ফাউন্ডেশন, মেকআপ কিট, রং ফর্সাকারী ক্রিম, পাউডার, ময়েশ্চারাইজার লোশনসহ সৌন্দর্যচর্চার অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম মূল্য প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেবে বাজারে।

রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এই নীতিগত পরিবর্তন এনেছে সরকার। এনবিআরের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৪৫ লাখ ৫০ হাজার কেজি সাজসজ্জার পণ্য আমদানি হয়েছে, যার শুল্কায়নমূল্য ছিল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এই আমদানিতে সরকার পেয়েছে ৭৮৯ কোটি টাকা রাজস্ব। বাজেট বাস্তবায়িত হলে আগামী অর্থবছরে এই খাত থেকে ৮০০ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় সম্ভব বলে মনে করছে এনবিআর।

ভোক্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুল্ক বৃদ্ধির এই প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়বে। তাই ভোক্তাদের সাজসজ্জার পণ্য কেনার আগে বাজেট সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেটে নারীদের ব্যক্তিগত খরচের এই পরিবর্তন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ‘আড়াল করা কর’ হিসেবে দেখছেন, যেখানে কর হার না বাড়িয়ে শুল্কায়নের ভিত্তিমূল্য বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় জোরদার করা হচ্ছে।