নাদিয়া-দ্য বেকার

নাদিয়া হুসেইনএটি সাধারণ কোনও ঘটনা নয়। যুক্তরাজ্যে যে অনুষ্ঠানটি সর্বোচ্চ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে, সম্প্রতি সেই ‘গ্রেট ব্রিটিশ বেক অব কম্পিটিশন ২০১৫’ তে অত্যন্ত পারদর্শিতার সঙ্গে বিজয় লাভ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাদিয়া হুসেইন। তিন সন্তানের জননী নাদিয়া হুসেইন বড় হয়েছেন লুটনে। সেখানকার চ্যালনি হাইস্কুল আর লুটন সিক্সথ ফর্ম কলেজে পড়াশোনা করেছেন তিনি। নাদিয়ার আরও তিনটি বোন ও দুটি ভাই রয়েছে।
প্রাথমিক রন্ধন দক্ষতাটুকু স্কুল থেকেই অর্জন করেন নাদিয়া। তার মায়ের বেকার হিসেবে অভিজ্ঞতা ছিল না এবং তিনি ওভেনও ব্যবহার করতেন না। তবে তাতে হাল ছাড়েননি নাদিয়া। রেসিপি বই আর ইউটিউবের ভিডিও দেখেই বেকার হিসেবে নিজের হাত পাকিয়ে নেন তিনি। তার পছন্দের বইটিও রান্না নিয়ে। আর সেটি আইরিশ লেখক মারিয়ান কেয়েসের লেখা।
পুরস্কার জেতার পর থেকেই বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন এই তারকা। শিগগিরই তার বাংলাদেশ সফর করার কথা রয়েছে। পুরস্কার অর্জনের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি এবং বেকিং নিয়ে নাদিয়াকে কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে নাদিয়া সময় নিয়েছেন। তবে ভালো কেক তৈরির সর্বোৎকৃষ্ট কৌশলের কথা বলতে গিয়ে এক কথায় পরিমাপ মতো উপকরণ নেওয়া আর সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নাদিয়ার সাক্ষাৎকারের উল্লেখযোগ্য অংশ-
বাংলা ট্রিবিউন:  আপনি কি শৈশব থেকেই বেকিং ও রান্নার কাজ করছেন?

নাদিয়া: আমি বাবা-মায়ের কাছ থেকেই রান্না করা শিখেছি। তবে বেকিং শুরু করেছি ২১ বছর বয়সে, বিয়ে করার পর থেকে।

কেক

বাংলা ট্রিবিউন:  ঠিক কবে থেকে আপনি বেকিং শুরু করেন?

নাদিয়া: প্রায় ৫ বছর আগে থেকে আমি বেকিংকে বেশি গুরুত্ব সহকারে নিতে শুরু করি।

বাংলা ট্রিবিউন:  বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে আপনি রান্নার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়েছিলেন বলে মনে হয় কি?

নাদিয়া: কোনও কিছু শেখার আগ্রহ থেকেই মূলত রান্না ও বেকিংয়ের প্রতি আমার প্রেম তৈরি হয়েছে। রান্নাঘরে থাকার অনুভূতি অনেকটা বিজ্ঞানের মতো। আর তা থেকেই রান্নাঘরে বেশি সময় থাকার উৎসাহ পাই আমি।

বাংলা ট্রিবিউন:  আপনি রান্না শুরু করেন কবে থেকে?

নাদিয়া: ৯ থেকে ১০ বছর বয়সে আমার রান্না শুরু হয়।

বাংলা ট্রিবিউন:  আপনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?

নাদিয়া:নিজেকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করতেই আমি বেক অব কম্পিটিশনে নাম লিখিয়েছি। এখানে ‌আত্মবিশ্বাস অর্জনই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য।

বাংলা ট্রিবিউন:  কে আপনাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন? বাবা, মা, স্বামী কিংবা সন্তান...?

নাদিয়া: আমার অনুপ্রেরণা অবশ্যই আমার দাদী। তিনি খুব চমৎকার রান্না করতেন। আমার স্বামী আর সন্তানেরাও বেশ অনুপ্রেরণা দিয়েছে। কারণ আমি যা রান্না করতাম তার সবগুলোর স্বাদ পরীক্ষা করে দেখতো ওরা।

বাংলা ট্রিবিউন: ভালো কেক তৈরির সর্বোৎকৃষ্ট কৌশল কী?

নাদিয়া: সব উপকরণ পরিমাপ মতো দেওয়া। সতর্ক থাকা।

বাংলা ট্রিবিউন:  বাংলাদেশে কবে যাচ্ছেন?

নাদিয়া: শিগগিরই যাব, বাংলাদেশে গিয়ে এবার অনেক মজা করব। সেখানে যেসব এলাকা আমি দেখেনি সেগুলো নতুন করে আবিষ্কারের চেষ্টা করব।

/এফইউ/ এএইচ/