দণ্ডপ্রাপ্ত দুই মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও আ ক ম মোজাম্মেল হকের মন্ত্রিত্ব নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তারা এ মন্তব্য করেছেন।
আইনজীবীরা বলছেন, তাদের পদে থাকা এখন নৈতিকতার প্রশ্ন। কারণ আদালত শুনানিকালে বলেছেন, আদালতের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা শপথ ভঙ্গ করেছেন। আর শপথভঙ্গ সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।
রবিবার আদালত অবমাননার অভিযোগে চাওয়া দুই মন্ত্রীর ব্যাখ্যা খারিজ করে দিয়ে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন আপিল বিভাগ। আগামী ৭ দিনের মধ্যে জরিমানার এ অর্থ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানা না দিলে তাদের সাত দিন করে কারাভোগ করতে হবে। এরপর থেকেই দণ্ডিত হওয়া দুই মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব থাকছে কিনা, কিংবা মন্ত্রিত্বের শপথ ভঙ্গ হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক এ বিষয়ে বলেন, ‘নৈতিকতার প্রশ্নে আমি মনে করি, আজকে না হোক আগামীকাল সকালের মধ্যে তারা পদত্যাগ করবেন।’
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২ এর ঘ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনও ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যুন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে। এবং ৬৬ (২) ঙ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না যদি তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন যে কোনও অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন।
এই বিবেচনায় এই দুইজনের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলার সুযোগ না থাকলেও তারা মন্ত্রী থাকবেন কি থাকবেন না সেটা নৈতিকতার প্রশ্ন বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, আদালত অবমাননার অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্তদের মন্ত্রিত্ব বিষয়ে সংবিধানে কিছু উল্লেখ না থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা।
আইনজীবী সমিতির নেতা প্রবীন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন, ‘মন্ত্রী থাকা না-থাকা নৈতিকতার বিষয়। বিচার বিভাগকে নিয়ে কথা বলে এই দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন। শপথ ভঙ্গ মানে সংবিধান অবমাননা এবং সে কারণে তাদের পদত্যাগ করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা পদত্যাগ নাও করেন, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এই আশা রাখি।’
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আদালত অবমাননার অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক স্বপদে বহাল থাকবেন কিনা তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে সংবিধানে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। মন্ত্রিসভা তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’
এ প্রসঙ্গে আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আদালত তাদের কনভিক্টেড বলেছেন, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায়ের আগে এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। তাদের বিষয়ে আদালত আদেশে কোন ধরনের মন্তব্য করেছেন সেটা না দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো মুশকিল।’ এ বিষয়ে মোজাম্মেল হকের আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হকও কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তাদের মন্ত্রিত্ব থাকবে কিনা এমন প্রশ্নে বার কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কামরুল ইসলামের আইনজীবী বাসেত মজুমদার বলেন, ‘তাদের মন্ত্রিত্বের শপথ ভঙ্গ হয়েছে কিনা সেটি আদালত সংক্ষিপ্ত আদেশে এখনও ক্লিয়ার করেননি। পূর্ণাঙ্গ রায় বের হওয়ার আগে এ ব্যাপারে মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’
এ বিষয়ে শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন। তারা শুধু প্রধান বিচারপতিকেই ছোট করেননি, গোটা বিচার বিভাগকে পায়ের নিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। কুৎসা রটনা, বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপ ফৌজদারি অবমাননা।’
/ইউআই