আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য আরেকটু দৃশ্যমান করতে বলেছেন।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চারটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক শেষে এসব কথা জানা তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘আজকের আলোচনা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। যতগুলো দল কথা বলেছে, প্রত্যেকেই বলেছেন— ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের প্রশ্নে তাদের মধ্যে কোনও মতভিন্নতা নেই, কোনও বিরোধ নেই। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন—রাজনৈতিক মাঠে আমরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, আমরা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে কথা বলতে পারি। তার মানে এটা না, তারা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তারা আমাদের রাজনৈতিক সহযোগী, রাজনীতির মাঠে এই ধরনের কিছু কিছু কথা বলা হবে। এটা থেকে কোনোভাবেই আমাদের ধারণা করা উচিত না যে, ফ্যাসিবাদ-বিরোধী ঐক্য কোনও ফাটল আছে। এমন ধারণা আমাদের করা উচিত না। এটা উনারা আমাদের জানিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আমাদের দুটি জিনিসের উপর হাইলাইট করা হয়েছে। একটি হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা যেন আরও শক্ত অবস্থান নেই। আমাদের কিছুটা ঘাটতি সম্পর্কে ওনারা বলেছেন। আর বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে আমাদের সুষ্ঠুভাবে অগ্রসর হওয়া উচিত। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন—আপনাদের মধ্যে ঐক্য আছে, এটা আরেকটু দৃশ্যমান হলে ভালো হয়।’
প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘আপনারা ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রশ্নে হোক বা গঠনমুলক কোন কর্মসূচি হোক আপনারা যদি একসঙ্গে থাকেন, এটা যদি মানুষ দেখে মানুষের মধ্যে স্বস্তির ভাব আসবে, মানুষ অনেক খুশি হবে দেখলে। মানুষ আপনাদের একসঙ্গে দেখতে চায়।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘উনারা (রাজনৈতিক নেতা) বলেছেন, উনাদের মধ্যে ঐক্য হচ্ছে যে উনারা মাঠে যাই বলুন না কেন যখনই প্রধান উপদেষ্টা ডাকেন তখনই উনারা এসে হাজির হন। ঐক্যের আরেকটা প্রমাণ দিয়ে বলেছেন, তারা তো প্রতিদিন ঐকমত্য কমিশনের মিটিংয়ে যাচ্ছেন। উনারা চারটি বড় দল মূলত যে বার্তা আমাদের দিয়েছেন তা হচ্ছে, ফ্যাসিবাদ-বিরোধী একতা, কোনোরকম হতাশা, টেনশন থাকার প্রয়োজন নাই। উনারা আইডেন্টিফাই করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে যে নিষিদ্ধ দল আছে, ফ্যাসিস্টদের সহযোগী আছে, তারা মাঝে মাঝে মাথা চাড়া দেয়। সেক্ষেত্রে আমাদের বলেছেন, প্রশাসনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিতে। আমরা বলেছি, মাঠে ঐক্যটা আরও বেশি দৃশ্যমান করবেন।’
প্রসঙ্গত, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিষয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাত ৯টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের চারটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ; জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম মেম্বার অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও যুগ্ম-মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবীর খান ও শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান।