যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কেনার পেছনের কারণ জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কেনার যুক্তি তুলে ধরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ৩০ জুন বাণিজ্য সচিবের পক্ষ থেকে খাদ্য সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বিদ্যমান ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে আমদানির ওপর আরও ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বুধবার (২৩ জুলাই) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ সভায় ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে এসব যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অধিক পণ্য আমদানির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা একটু ভিন্নতা আনতে চাচ্ছি। অনেক সময় রাশিয়ান ব্লক কিংবা ইউক্রেন ব্লকে একটা অনিশ্চয়তা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন আমাদের আমদানি বাড়ানোর আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের গমের মান ভালো।
যুক্তরাষ্ট্রের গমের দাম তুলনামূলক বেশি কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, দাম একটু বেশি হলেও, আমরা অন্যদিকে দিয়ে সুবিধা পাবো। যুক্তরাষ্ট্রের গমের প্রোটিনও কিছুটা বেশি। প্রোটিন খুব বেশি তা নয়, তবে একটু বেশি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের ভালো ইমেজ আছে। সম্প্রতি আমরা যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন, এক্সিলারেট এনার্জি, মেটলাইফের কতগুলো বকেয়া পরিশোধ করে দিয়েছি। বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে ইউএস চেম্বার আমাকে চিঠি লিখেছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোক্রপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ৮১৭ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয়ে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন গমের দাম পড়বে ৩০২ দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলার।