চারটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ নির্বাহী আইনে চায় বিএনপিসহ কয়েকটি দল। এ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ওয়াকআউটের ঘটনাও ঘটেছে।
আর জামায়াত ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল সাংবিধানিকভাবে নিয়োগের পক্ষে।
সোমবার (২৮ জুলাই) সোয়া ১১টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে চারটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এই চারটি প্রতিষ্ঠান হলো সরকারি কর্ম কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক, দুদক ও ন্যায়পাল। অবশ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে গঠনে বিএনপির সায় রয়েছে। এ নিয়ে কোনও দলের ভিন্নমত নেই।
সাংবিধানিক পদ্ধতিতে যারা নিয়োগ চান তাদের যুক্তি হলো এতে দলনিরপেক্ষ নিয়োগ হবে।
আর বিএনপিসহ যারা নির্বাহী আইনে নিয়োগ চান, তাদের দাবি সাংবিধানিক নিয়োগ হলে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পরবে।
বিএনপির ওয়াকআউট ও ফেরা
বৈঠকের শুরুতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ জানতে পারেন আজকের আলোচনায় চারটি প্রতিষ্ঠান সরকারি কর্ম কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক, দুদক ও ন্যায়পাল নিয়ে আলোচনা হবে। তখন তিনি এ আলোচনা অংশ না নিয়ে ওয়াকআউট করেন। নিচে নেমে এসে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক নিয়োগের বিষয়ে আমরা আপত্তি করিনি। আর এ চারটির বিষয়ে আমাদের মতামত গত ২২ জুলাই দিয়েছি। তাই আর আলোচনা করতে চাইনি। অবশ্য পরবর্তীতে তিনি আবার বৈঠকে ফেরেন। যদিও অন্যান্য দিনের মতো তিনি বৈঠক শেষে ব্রিফিং না করেই চলে যান।
বিএনপির সাথে তাদের যুগপৎ সঙ্গী কয়েকটি দল বাংলাদেশ লিবারেল পার্টি, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলা জাতীয় দলসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করেছে।
সাংবিধানিক নিয়োগের পক্ষে যারা
উল্লেখিত চারটি প্রতিষ্ঠানকে সাংবিধানিক কাঠামোর আওতায় আনতে একমত পোষণ করেছে জামায়াত ও এনসিপি।
জামায়াত: বিকালে ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন পিএসসি নিয়ে বেশিরভাগ দল একমত। তবে বিশেষ ঘরানার দল কয়েকটি দল দ্বিমত।
বিশেষ করে পিএসসি ও দুদকের ব্যাপারে তিন চতুর্থাংশ এক হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা বিরোধিতা করছেন তারা জানেন সাংবিধানিক নিয়োগ হলে যখন তখন পরিবর্তন করতে পারবেন না। আর নির্বাহী আইনে হলে তাদের জন্য সহজ হয়। আমরা মনে করি কোনও দলের প্রয়োজনে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। জাতির প্রয়োজনে করলে সবাই মিলে করতে পারবে।
এনসিপি
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আমরা একটি চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিয়ে রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। সেক্ষেত্রে উল্লেখিত চার প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সাংবিধানিকভাবে চাই। এতে তারা কারও কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে না। কারণ দলীয় নিয়োগের কারণে বিগত দিনে দুর্নীতি বেড়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি যেহেতু নির্বাচন কমিশন গঠনে এ প্রক্রিয়ায় আপত্তি করেনি, তাই এই চারটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আপত্তি না করুক।
গণঅধিকার পরিষদ
গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান বলেন, পূর্বের অবস্থান নিয়ে বিএনপি অনড়। আমরা বলেছি, দুদক ছিল দন্তহীন বাঘ। বরং দুদক দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকেও সততার সনদ দিয়েছে।
তাই আমরা দুদক ও পিসসির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার পক্ষে।
এছাড়াও এই প্রস্তাবের পক্ষে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জেএসডি, সিপিবি ও নেজামে ইসলামী পার্টিসহ অধিকাংশ দল।
যা বললেন আলী রীয়াজ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, ৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের পক্ষে বিএনপিসহ সব দল। আর অন্য চারটিতে একমত। বিএনপিসহ কয়েকটি দল দ্বিমত। তিনি আশা করেন ব্যাপক আলোচনায় এ বিষয়ে একটি সমাধান আসবে। বিএনপির ওয়াকআউটকে তিনি সম্মান জানান এবং পুনরায় বৈঠকে যোগদান করায় ধন্যবাদ দেন।