মঙ্গলবার প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে রেললাইন নির্মাণের ঝুঁকি নিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সভায় এ সব তথ্য জানানো হয়। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ সভাপতিত্ব করেন। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায়, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শশী কুমার সিংহ, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৭৫ একরের মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটির ভেতরেই ৫ একরের একটি ভেড়ার খামার আছে। প্রজনন কেন্দ্রে বর্তমানে ৩৭৭টি মহিষ রয়েছে।
মহিষ প্রজনন খামারের মধ্য দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে অধিগ্রহণ করা এই বিশাল জায়গায় রেললাইন স্থাপন করা হলে মহিষের মারাত্মক প্রজনন সমস্যা, অনাকাঙ্খিত গর্ভপাত, বিকলাঙ্গ বাচ্চা প্রসবসহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হবে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের একমাত্র মহিষ প্রজনন খামারটির মারাত্মক ঝুঁকির কথা নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি আমাদের খামারের জমির ভেতর দিয়ে রেলপথ স্থাপনের বিষয়টিও আমাদের যথাসময়ে জানানো হয়নি।
প্রজনন খামারটি বাঁচাতে ঝুঁকির কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরপর প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা সবাই তা মেনে নেব।
রেললাইনের কারণে খামারটির ভেতরে স্থাপিত ভেড়ার খামারের ৪ একরসহ মোট ৯ একর জমি কমে যাওয়ায় পশুদের চারণভূমিরও সংকট দেখা দেবে। সভায় উপস্থিত একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী রেলের কর্মকর্তারা জানান, জমি অধিগ্রহণের আগে স্থানীয় সভায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছিলেন। বিষয়টি এতটা জটিল তা তারা বুঝতে পারেননি। এ মুহূর্তে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
তবে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, সেই সভায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
/এসআই/এজে/