ঠিকাদার গ্রেফতার:থানায় অবস্থান নিয়েছেন আইভী

থানায় অবস্থান নেওয়া মেয়র আইভীঢাকার হাতিরঝিলের আদলে নারায়ণগঞ্জে নির্মাণাধীন পার্কের ঠিকাদারকে গ্রেফতারের ঘটনায় বুধবার রাত সাড়ে ১০টা হতে সদর মডেল থানায় অবস্থান করছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। তিনি বলেছেন,‘যতক্ষণ পর্যন্ত ঠিকাদারকে ছাড়া না হবে ততক্ষণ আমি থানাতেই অবস্থান করবো।’
রাত দেড়টায় এ রিপোর্ট লেখা সময়ে থানার ওসির কক্ষেই বসা ছিলেন আইভী। তবে পুলিশ বলছে,আইনগত বিধি মেনেই জাকির হোসেন নামের ওই ঠিকাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিয়ম অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। আইভী জানিয়েছেন, ওই সময় পর্যন্ত হলেও তিনি থানাতেই অবস্থান করবেন।
জানা গেছে,ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) উদ্যোগে শহরের জিমখানায় লেক ও বিনোদন পার্ক নির্মিত হচ্ছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হলো মেসার্স রত্না এন্টারপ্রাইজ, যার মালিক হলেন জাকির হোসেন। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির অনেকখানি কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২৭ জানুয়ারি রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা লেক ও পার্ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে। বুধবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় রেলওয়ের কানুনগো ইকবাল মাহমুদ বাদী হয়ে নাসিকের ঠিকাদার আবু সুফিয়ানকে প্রধান আসামি করে রত্না এন্টারপ্রাইজের মালিক জাকির হোসেনসহ ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে,রেলওয়ের জায়গা লিজ না নিয়ে জোরপূর্বক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। রাত পৌনে ১০ টার দিকে ঠিকাদার জাকিরকে কালিরবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।
কানুনগো ইকবাল মাহমুদ জানান,রেলওয়ের জায়গা দখল ও সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের ওই ঘটনায় আমি বুধবার বিকেলে বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করি। মামলায় দুই ঠিকাদার সুফিয়ান ও জাকির হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল মালেক জানান,বুধবার সন্ধ্যায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছে। মামলার আসামি ঠিকাদার জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার পরেই সদর মডেল থানায় হাজির হন মেয়র আইভীসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। ওই সময়ে আইভীর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মনিরুজ্জামান মনির,জেলা যুবলীগ সভাপতি আবদুল কাদির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল মালেককে উদ্দেশ্য করে আইভী বলেন,আমি থানার ভেতর থেকে এক পাও নড়বো না। কার নির্দেশে এই মামলা হয়েছে সেটা জানতে চাই। কাল থেকে আর উন্নয়ন কাজ চলবে না। উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকলে প্রয়োজনে পদত্যাগ করবো। এই শহর শামীম ওসমানের শহর। শামীম ওসমানই থাকুক।
মেয়র আইভীর সঙ্গে যাওয়া জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির বলেন,প্রয়োজন হলে আমাদের সবাইকে গ্রেফতার করুন। আমরা এক পাও নড়বো না।
এসময় তাদের সঙ্গে থানার উর্ধ্বতনদের তুমুল বাকবিতণ্ডা ঘটে। পরে মেয়র আইভী সাংবাদিকদের বলেন, কোনও অপরাধ ছাড়া আমাদের ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। ঠিকাদার জাকিরকে কাজ আমি দিয়েছি। মামলা করলে আমার বিরুদ্ধে করেন। গ্রেফতার করতে হলে আমাকে করেন। একটি বিশেষ মহলের নির্দেশে মামলা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আমি সারারাত থানায় থাকবো। সকালে প্রয়োজনে আমাকেও আদালতে চালান করা হোক। নির্দোষ ব্যক্তিদের থানায় রেখে বাড়ি যাব না। একের পর এক আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে আমার ভাই উজ্জল, ভাগ্নে, ঠিকাদার সুফিয়ানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমার অপরাধ আমি ত্বকী হত্যার বিচার চেয়েছি। সেভেন মার্ডারের বিচার চেয়েছি। নাট্যকার চঞ্চল হত্যার বিচার চেয়েছি। এজন্য বিশেষ মহলটি আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।

 

টিএইচ/এমএসএম