সূত্র জানায়, কমিশন মনে করছে নির্বাচনে অনিয়ম কারচুপি যাতে ব্যাপক হারে বাড়তে না পারে তার জন্য কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের শুরু থেকেই সতর্ক রয়েছে। অনিয়মের কারণে কমিশন প্রথম ধাপে ফেনীর দুইটি উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল বাতিল করে দিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে সরকার দলের একজন উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত ও তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই ধাপে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার কারণে সরকার দলীয় এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। ওই ঘটনার পর দেশের অন্য কোথাও সরকার দলের প্রভাব খাটানোর খরব পাওয়া যায়নি। কমিশন মনে করে দুইজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলেই তারা এই ইতিবাচক ফল পেয়েছে।
এদিকে নির্বাচনে সরকারি দলের সরাসরি হস্তক্ষেপ না থাকলেও প্রথম ধাপের ভোটের দিন নির্বাচনী কর্মকর্তা বিশেষ করে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে অন্তত ৬৫টি কেন্দ্র দখল, আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তিসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ কমিশনে আসে। এর অনেকগুলোয় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পায় কমিশন। অনিয়মের দিক থেকে এগিয়ে ছিলো সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র। যার কারণে কমিশন ভোট গ্রহণের দিনই ওই জেলার ১১টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের সকল সদস্যকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ১৪টি কেন্দ্রের কারচুপির সঙ্গে জড়িত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করারও সিদ্ধান্ত হয়। এসব সিদ্ধান্তের বেশিরভাগই বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বুধবার সাতক্ষীরা এসপি ও ৫ ওসিকে তলব করে ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন। বিভিন্ন আইনি দিক তুলে ধরে কমিশন ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের তিরস্কারও করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ঘটনায় কয়েকজন ওসি ইসির কাছে দুঃখ প্রকাশও করেছেন। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের আমলে অনিয়ম রোধে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা। কমিশন মনে করছে এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অন্যান্যদেরকে বার্তা দেবে। ফলে পরবর্তী ধাপগুলোকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা আরো সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবে। যার কারণে কমিশন অন্যদের শিক্ষা দিতে কালক্ষেপণ না করেই দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের আগের দিনই পুলিশের এসব কর্তা ব্যক্তিদের ডেকে এনে ‘শাসালেন’।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনা মো. শাহ নেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পরবর্তী নির্বাচনকে চিন্তা করে নয় অনিয়ম পেয়েছি বলেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যবস্থা অব্যহত থাকবে।
প্রথমধাপের অনিয়মের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা পরবর্তী ধাপে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন কমিশনার। তিনি বলেন, যদিও আমরা ওই বিষয়টি চিন্তা করে এই ব্যবস্থা নেইনি। তবে এটা ঠিক এই ঘটনা অন্যদেরকে কিছুটা হলেও সতর্ক করবে।
ইএইচএস/এমএসএম