ঢাবি এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ির জায়গায় বহুতল ভবন!

পুলিশের বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে এসব গাছ কেটে ফেলেছে পিডব্লিউডিঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় ফজলুল হক মুসলিম হলের পেছনে, আনোয়ার পাশা ভবনের কাছে বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির (রমনা জোনের অধীনে) জায়গায় ২২ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। এর আগে ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে সেখানকার বেশ কয়েকটি শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলা হয়।
জানা যায়,গত মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) রাতে ভবন নির্মাণের জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির ১২টির বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়। পরে সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে পুলিশ প্রশাসন। ১৯৯২ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড.এমাজউদ্দীন আহমদ সাময়িকভাবে ওই স্থানটিতে বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের অনুমতি দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশের বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভবন নির্মাণ না করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে । ওই জায়গায় ভবন নির্মাণ করা হবেনা, তবে আগের মতো পুলিশ ফাঁড়ি থাকবে।’

এদিকে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গাছ কাটতে হলে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া নিয়মের মধ্যে পড়ে। তবে ভবন নির্মাণের জায়গায় গাছ কাটার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা, সেটা আমি জানি না।’

ফজলুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এরকম একটা কাজ অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। যে গাছগুলো কাটা হয়েছে সেগুলো ক্যাম্পাসের সব থেকে উঁচু গাছ ছিল। এগুলোকে রাতের আঁধারে কাটা হয়েছে। এখানে ভবন নির্মাণ করা হলে পুরো কার্জন হল এলাকার শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হবে। পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়বে শিক্ষকদের আবাসিক কোয়ার্টার আনোয়ার পাশা ভবন, আবুল খায়ের ভবন, ছাত্রদের ফজলুল হক মুসলিম হল ও অমর একুশে হল।’

যোগাযোগ করা হলে শাহবাগ থানার ওসি আবুবকর সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যতটুকু জানি ওখানে ভবন নির্মাণের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। তারপরই সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আর ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার পাওয়া পিডব্লিউডি গাছ কেটেছে। থানা থেকে কিছু করা হয়নি।’

এসআর/ এপিএইচ/