এদিকে কাঁচা চামড়া হাজারীবাগে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়ে আগের মতই অনড় রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। শনিবার দুপুরে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সাংবাদিকদের বলেন, কোনওভাবেই হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া ঢুকতে দেওয়া হবে না। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি শিল্পমন্ত্রী ট্যানারি স্থানান্তরে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন মালিকদের।
জানা গেছে, হাজারীবাগের ট্যানারি এলাকায় প্রবেশের চারটি পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হাজারীবাগ থানা পুলিশ চামড়া প্রবেশের চারটি প্রবেশপথে নজরদারি করছে বলে জানিয়েছেন হাজারীবাগ থানার ওসি মীর আলিমুজ্জামান।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জানুয়ারি মালিকদের গড়িমসিতে ক্ষুব্ধ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছিলেন, যেসব ট্যানারি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাজারীবাগ ছাড়বে না, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মন্ত্রী জানান, নোটিশ পাঠানো হবে। যেহেতু এটা আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাপার, সেহেতু নোটিশের মাধ্যমেই তা করতে হবে। এরপর ট্যানারি মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এর আগেও সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারিকেও পাত্তা দেননি ট্যানারি মালিকারা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে এখনও বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়নি। বর্জ্য শোধানাগারের কাজ শেষ হয়নি। এ পরিস্থিতিতে কিভাবে সেখানে যাওয়া সম্ভব। কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে পানির বিকল্প নেই, পানির সংযোগ না দিলে সেখানে গিয়ে কি হবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মিজানুর রহমান আরও বলেন, সরকারের উচিত সব কিছু বিবেচনা করে যৌক্তিক সময় দেওয়া। না হলে দেশের চামড়া শিল্প ক্ষতির মুখে পড়বে। আমাদের সংগঠনের নেতারা একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হংকং গিয়েছেন। তারা ফিরলেই সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় দূষণের জন্য হাজারীবাগের ট্যানারি কারখানাগুলোকে ‘লাল’ ক্যাটাগরিভুক্ত করে। ২০০৩ সালের ১৬ আগস্টে একনেক সভায় চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের অনুমোদন হয়। এরপর ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত হাজারীবাগ থেকে সব ট্যানারিকে সেখানে সরে যাওয়ার সময় দেওয়া হয়। কিন্তু সাভারে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় একাধিকবার পেছায় এই সময়সীমা।
/সিএ/এমও/আপ-এআর/