বিচারপতিদের আচরণবিধি সংশোধন

ঘোষণার ৬ মাসের মধ্যে রায়ে স্বাক্ষর করতে হবে

সুপ্রিম কোর্টঘোষণার ৬ মাসের মধ্যে রায়ে স্বাক্ষর করার বিধান রেখে বিচারপতিদের আচরণবিধি সংশোধন করলো আপিল বিভাগ। রবিবার বিচারপতি সাইদুর রহমানের অপসারণের মামলাটি নিষ্পত্তি করে সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতিদের ৪০টি আচরণবিধি তৈরি করেন। এই আচরণবিধির ৬ নাম্বারে ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর আগে বিচারপতি সাইদুর রহমানকে অপসারণ করে রাষ্ট্রপতি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলেন। রাষ্ট্রপতির সেই প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন এই বিচারপতি। রিটের শুনানি শেষে গতবছর হাইকোর্ট সাইদুর রহমানের অপসারণ আদেশ বহাল রাখেন। হাইকোর্টের সে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন সাইদুর রহমান। তবে আপিল বিভাগ শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশই বহাল রাখেন।
এছাড়া, সম্প্রতি অবসরে যাওয়া বিচারপতি শামসুদ্দিন হায়দার চৌধুরীর নানা আচরণ এবং এলপিআরে থাকা বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী মানবতাবিরোধী মামলার শুনানি করতে আগ্রহ দেখানোর পর থেকে আচরণবিধি সংশোধন নিয়ে কথা উঠেছিলো। এমনকি সংবিধান লংঘন, শপথভঙ্গ ও অসদাচরণের অভিযোগ এনে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অভিশংসন চেয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে চিঠিও দিয়েছিলেন শাসমুদ্দিন হায়দার চৌধুরী। পরে তিনি তার কাছে আটকে থাকা রায় ফেরত দেওয়া নিয়েও নানা মতবিরোধ তৈরি করেন।

১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের করা আচরণবিধির অনুসরণে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আচরণবিধি তৈরি করেছিলেন। এরপর তা ২০০০ সালে সংশোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান, যা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ষোড়শ সংশোধনীতে বাতিল হয়।

এর আগে আইনমন্ত্রী আচরণবিধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিচারকরা যতদিন এলপিআরে থাকতেন, ততদিন তারা কোর্টে যেতেন না। কিন্তু সম্প্রতি বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ১২ জানুয়ারি অবসরে গেলেও পরদিনই আদালতে এসেছেন আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করতে। কিন্তু তখনও তিনি সরকারি বাসা ছাড়েননি।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপতিদের অধিকার আছে আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনা করার। তারা যদি আপিল বিভাগে প্র্যাকটিস করতে আসেন, তাহলে তাদের সরকারি সুবিধা ত্যাগ করে আসা উচিত। যদি ত্যাগ করতে না পারেন তাহলে ওইসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ শেষ হলে এরপর প্র্যাকটিস করতে আসা উচিত। কারণ বিচারকরা হচ্ছেন সমাজের দৃষ্টান্ত, রোল মডেল। তারা এমন কাজ করবেন, যেটা অনুসরণীয় হবে। আমি মনে করি, এখন সময় হয়েছে এগুলো ভেবে দেখার।

ইউআই/এমও  /এপিএইচ