অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য কিসে, জানালেন প্রেস সচিব 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের মূল্যায়ন মানুষই করবে। বাংলাদেশের মানুষ দেখবে, এই ১৮ মাস কীভাবে ইন্টেরিম সরকার দেশের সেবা করেছে। আমরা মনে করি, এই সরকার তার ঐতিহাসিক ডিউটি পালন করেছে এবং রেকর্ড পরিমাণ অধ্যাদেশ জারি করেছে।”

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব কথা বলেন।
   
প্রেস সচিব বলেন, “ভঙ্গুর একটা অর্থনৈতিককে তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) ইনহেরিট করেছিল, সেটাকে আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে এনেছে। দেশের জন্য ফরেন পলিসিতে একটা বোল্ড দিতে পেরেছে। দেশে পিস অ্যান্ড স্টেবিলিটি এনসিওর করেছে। আপনারা যদি ক্রাইমের ফিগারগুলো দেখেন, এখানে স্পষ্ট গত বছর বা তার আগের বছরের থেকে ক্রাইম যে খুব বেশি বেড়েছে তা না। আমরা এখানে খুবই ট্রান্সপারেন্সি মেইনটেন করি।”

তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকিং সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। এই সেক্টরে বড় রকমের ডাকাতি হয়েছিল। আপনার যদি পাকিস্তান বা অন্যান্য দেশে দেখেন,
ডলারের দাম হঠাৎ করে কমে যায় আবার বেড়ে যায়। আমাদের এই পুরো ১৮ মাসে ডলারের রেটটা খুবই স্টেবল ছিল। রেমিট্যান্স বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ, দ্রব্যমূল্য দাম মনে করেন জাস্ট একটা বন্যার, খাদ্যমূল্যকে সাত শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে।”

শফিকুল আলম বলেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা গিয়েছে। আমাদের ম্যান্ডেট ছিল বিচার করা। জুলাই-আগস্টে যারা ভয়ানক রকমের হত্যাযজ্ঞ করলেন তাদের বিচারটা শুরু করা গেছে। বাংলাদেশের থেকে গুম উঠে গেছে। বন্ধ হয়েছে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং। নাটক করে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং করা হতো, এখন একটাও হচ্ছে না। এই কাজগুলো যারা করেছেন তাদেরকে একাউন্টেবল করা হচ্ছে, তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে। সবচাইতে বড় একটা দায়িত্ব ছিল, ইলেকশনের জন্য দেশকে প্রিপেয়ার করা এবং সবাইকে একটা ভালো রিফর্মের জায়গায় নিয়ে যাওয়া। সেটার জন্য জুলাই চার্টার আছে এবং জুলাই চার্টার এখন রেফারেন্ডমে (গণভোটে) আসছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি তার রায় জানাবে।”

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত পরবর্তী সরকারে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনও ভূমিকা থাকবে না জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, “নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। প্রক্রিয়াটি যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হবে। এমপিরা শপথ নেওয়ার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি তিন দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে। আমার মনে হয় না, এটি ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির বেশি সময় নেবে।”