‘দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের আর্থিক সহায়তাকে মানবিক দায়বদ্ধতা বিবেচনা করে সরকার’

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের আর্থিক সহায়তা দেওয়াকে সরকার মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

রবিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ সব কথা জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের অষ্টম দিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কার্যক্রম। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের আর্থিক সহায়তা দেওয়াকে সরকার মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩)’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় কোনও শ্রমিক নিহত বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক বা তার পরিবারকে এককালীন অনধিক ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

এছাড়াও, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী মালিকপক্ষ দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে আইনগতভাবে বাধ্য। তার ওপর, ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় মোটরযান দুর্ঘটনায় হতাহতদের ক্ষেত্রেও ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার ইলাছ মিয়া, চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ৮০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন। এছাড়া মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী ও বড়লেখা) নির্বাচনি এলাকায় সর্বমোট ১৪ জন শ্রমিক ও তাদের পরিবারের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সরকার ভবিষ্যতেও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার এবং শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।