বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের নিশ্চিত ভিসা এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হাইকমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ভিসা নিয়ে ভুয়া দাবির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই ধরনের প্রতারণা এড়াতে এবং সঠিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য সবসময় অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.gov.uk) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। এছাড়া কোনও ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন বা প্রতারণার শিকার হলে পরিচয় গোপন রেখে BangladeshVisaFraud@fcdo.gov.uk ঠিকানায় অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে ব্রিটিশ হাইকমিশন স্পষ্ট জানিয়েছিল, ভিসা জালিয়াতি বা অবৈধ পথ অবলম্বন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর ১০ বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করবে যুক্তরাজ্য সরকার। জাল নথিপত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
ভিসা প্রতারণা ও কাগজপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে গত ৮ এপ্রিল কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ১৩টি পশ্চিমা দেশ যৌথভাবে একটি বিশেষ বিবৃতি প্রকাশ করে। যা বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বলছে, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা যুক্তরাজ্যে চাকুরি বা নিশ্চিত ভিসার কথা বলে প্রতারণা বাড়ছে। এমনকি মানবপাচার চক্র উন্নত এসব দেশে পাঠানোর কথা বলে বাংলাদেশি তরুণদের নেপালে নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছে। চক্রটি গন্তব্যে পৌঁছে তারপর টাকা পরিশোধের কথা বলে অভিবাসনে আগ্রহী তরুণদের আকর্ষণের চেষ্টা করে থাকে। এছাড়া বিদেশে ভালো কাজের কথা বলে অনেককে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে নিপীড়ন করা হচ্ছে। ইউরোপ নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিপীড়ন করা হচ্ছে। কাজেই বিদেশে যাওয়ার যেকোনও বিষয় গোপন না করে সবার সঙ্গে কথা বলে যাচাই-বাছাই জরুরি।