৩ ট্যানারি মালিককে পুলিশে সোপর্দ, ৩ জনের নামে পরোয়ানা

হাইকোর্ট

আদালতের আদেশ অমান্য করায় তিন ট্যানারি মালিককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আরও তিন ট্যানারি মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।

আজ রবিবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মাদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আটক তিন ট্যানারি মালিক হলেন, পূবালী ট্যানারিজের মাহবুবুর রহমান, মেসার্স প্যারামাউন্ট ট্যানারিজের মো. আকবর হোসেন ও রুমি লেদার ইন্ডাস্ট্রিজের গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। যাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তাদের নাম এখনও জানা যায়নি।

আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে সরকারের নির্ধারিত স্থানে ট্যানারি স্থাপন না করায় গত ২৪ মার্চ ১০ ট্যানারি মালিককে তলব করেন হাইকোর্ট। ১০ এপ্রিল সশরীরে তাদের হাজির হয়ে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরাতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল সরকার। ওই ১০ কারাখানা মালিক এই মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেননি। এ কারণে হাইকোর্ট তাদের প্রতি অবমাননার রুল দিয়েছিলেন। এবার তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়। আদালতে হাজির হলে তাদের ব্যাখ্যা মনোপুত না হওয়ায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

উল্লেখ্য, হাইকোর্ট ২০০১ সালে এক রায়ে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন। এর পর ২০০৯ সালের ২৩ জুন আদালত আরেক আদেশে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানো হয় যা শেষ হয় ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল। এরপরও ট্যানারি স্থানান্তর না করায় পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।

/ইউআই/এসটি/এজে