রাশিয়ার সঙ্গে কোন কোন ইস্যুতে আলোচনা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মধ্যে মস্কোতে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও মতবিনিময় হবে। সোমবার (৮ জুন) মস্কোয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। খবর বাসস।  

ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রচারিত রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে। উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে।”  

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের আমন্ত্রণে ড. খলিলুর রহমান ৭ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়া অবস্থান করছেন। এই সফর তার বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর রাশিয়ায় প্রথম সরকারি সফর।”  

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন ড. খলিলুর রহমান। 

বৈঠকে বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে মতবিনিময় হবে। 

রাশিয়া বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, “রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ এগিয়ে চলেছে।”  

সফরসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলির ফেডারেশন কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। 

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা ও বহুপাক্ষিক কূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ নিয়মিতভাবে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রয়েছে। রাশিয়া বাংলাদেশে প্রধানত শিল্প সরঞ্জাম, খনিজ সার ও গম রফতানি করে। অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি করে।  

বিবৃতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র-কে দুই দেশের সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট চালু হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটও চলতি বছরের মধ্যেই উৎপাদনে আসতে পারে। 

মস্কোর মতে, কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।  

রাশিয়া শিক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তাদের ফেডারেল বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১৮৫টি বৃত্তি বরাদ্দ করা হয়েছে।